রিয়াদে আরামকোর স্থাপনায় হামলা, ইয়েমেনে বিমান হামলায় নিহত ৭২
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলার চেষ্টা হয়েছে এবং ইয়েমেনে বিমান হামলায় ৭২ জন নিহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর ভবনে হামলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলায় বহুতল ভবন আরামকো টাওয়ারের বেশ কয়েকটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
রোববার ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় হুতিরা নিয়মিত আরামকোর বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা চালাচ্ছে। তেলবাহী জাহাজ, শোধনাগার, সংরক্ষণাগার এবং কোম্পানির প্রধান কার্যালয় লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
রিয়াদের কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট (কেএএফডি) এলাকায় আরামকো টাওয়ার অবস্থিত। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, 'কেএএফডির আরামকো টাওয়ারে হামলা হয়েছে, এটা নিশ্চিত।' অন্য দুজন প্রত্যক্ষদর্শী হামলা ও ভবনটির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরামকো টাওয়ার এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি গোলা বা ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানতে দেখেছেন। তবে সেটি ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ছিল, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে। এর এক বছর পর ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সরাসরি এ যুদ্ধে অংশ নেয় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। হুতিরা রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের অনেক এলাকাজুড়ে নিজেদের শাসন জারি রেখেছে। দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পর ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি দিয়ে সংঘাত বন্ধ থাকলেও ইরান যুদ্ধের ফলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। গত জুলাই মাস থেকে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
বিজ্ঞাপন
হামলায় আরামকো টাওয়ারের বেশ কয়েকটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, ভবনের জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে এবং ভবনের সামনের অংশের কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রিয়াদে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার চেষ্টা হয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে ছিটকে আসা ধাতব টুকরার আঘাতে ভবনটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি।
রিয়াদে ধারাবাহিক হামলার কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনলাইন ক্লাস চলছিল। সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত শনিবার রাতে সশরীর ক্লাস শুরুর ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই হামলার ঘটনা ঘটল।
সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, রিয়াদের দিকে হুতি মিলিশিয়াদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।
বিজ্ঞাপন
রিয়াদের যে এলাকায় হামলা হয়েছে, সেখানে দেশি-বিদেশি বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় অবস্থিত। সৌদির স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান কার্যালয়, আবাসিক ভবন ও বড় একটি মেট্রোস্টেশন রয়েছে এই এলাকায়। সকালের ব্যস্ত সময়ে সেখানে বিপুলসংখ্যক অফিসযাত্রী যাতায়াত করেন, ফলে এই হামলা সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিকে ইয়েমেনের আটটি প্রদেশে ৪৮ ঘণ্টায় সৌদি আরবের বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুতি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হুতিরা দাবি করেছে রাজধানী সানার পূর্বাঞ্চলীয় বনি হুশাইশ এলাকাটি হামলার মূল কেন্দ্র ছিল। সেখানে সৌদি আরবের বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ৩৯ জন নিহত হয়েছেন অন্যান্য এলাকায়।
রাজধানী সানার সেহাতুনা হাসপাতালের পরিচালক আবদুল-আজিজ আল-দাইলামি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকজন এমন আহত ব্যক্তিকে পেয়েছি, যাঁদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাঁদের মাথা, বুক ও পায়ে আঘাত লেগেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটার পর একটা হামলা চলছেই। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই আবার হামলা হচ্ছে। এমনকি আমরা আমাদের কয়েকজন চিকিৎসাকর্মীও হারিয়েছি। তাঁরা হামলায় নিহত হয়েছেন।’
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইয়েমেনে নতুন করে লড়াই শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩ লাখের বেশি মানুষ।