প্রধানমন্ত্রীর বাস নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য: আদালতে স্বীকারোক্তি যুবকের
সাত দিনের রিমান্ড শেষে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন মো. আবু বকর সিদ্দিক
নিজস্ব প্রতিবেদক · ঢাকা
প্রকাশ:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবি ফেসবুকে পোস্টের পর তাতে ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিলো’—এমন মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. আবু বকর সিদ্দিক (২২) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সাত দিনের রিমান্ড শেষে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন পাইক রোববার আসামিকে আদালতে হাজির করেন। আসামি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তদন্ত কর্মকর্তা তা রেকর্ড করার জন্য আদালতে আবেদন জানান। তদন্ত কর্মকর্তা ইয়াছিন পাইক জানান, আসামি আদালতে দায় স্বীকার করেছেন এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সেসব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এসআই ইয়াছিন পাইক আরও জানান, বেলা তিনটার দিকে আসামি আদালতে জবানবন্দি দেন। এই মামলায় মো. আবু বকর সিদ্দিকই একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি। তাঁর কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো অনুসন্ধান চলছে। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিককে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং সরকারপ্রধানকে হত্যার চক্রান্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এ ঘটনার পেছনে কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া আসামি কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের ফেসবুক গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে ওই আপত্তিকর মন্তব্যটি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারী আবু বকর সিদ্দিককে রাজশাহীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হলেও প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আবু বকর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করা হয়। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ফোনটি থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্য করার তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।