বিনার গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র উদ্বোধন: কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়বে ১২ মাস
গামা রশ্মি বিকিরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল ১২ মাস পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি · গাজীপুর
প্রকাশ:
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক গবেষণাকেন্দ্রে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার (জিআইসি) চালু করা হয়েছে। শনিবার গাজীপুরের ভবানীপুরে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্ব প্রকল্পের অধীনে তিন একর জমির ওপর নির্মিত এই কেন্দ্রে কোবাল্ট-৬০-এর তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করা হয়েছে, যার সক্ষমতা ৫০০ কেসিআই।
বিজ্ঞাপন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি আরও জানান, গাজর ও ক্যাপসিকামের মতো সবজি বেশি দিন সংরক্ষণ করা গেলে তা অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। এছাড়া আম, কাঁঠাল ও আনারস আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিযোগ্য করে তোলা গেলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিনার মহাপরিচালক শরিফুল হক ভুঁইয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্র প্রতিবছর ৫৬ হাজার ৫০০ টন পণ্যের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমাবে, যার মাধ্যমে কমপক্ষে ৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে। তাঁর ভাষ্যমতে, গামা রশ্মি প্রয়োগে আম ও কলার সংরক্ষণকাল ১০ থেকে ২১ দিন, পেঁয়াজ ও আলুর ছয় মাস এবং রসুনের ক্ষেত্রে ১২ মাস পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষিপণ্যের পাশাপাশি মেডিক্যাল সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার জন্যও এই কেন্দ্রটি ব্যবহার করা যেতে পারে। কৃষি সচিব মো. সেলিম খান বলেন, এই কেন্দ্রের সেবার সঙ্গে কৃষক, প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্প উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের সম্পৃক্ত করতে হবে। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি জিয়াকুন শি, আণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান এম মইনুল ইসলাম, চীনের সিএনএফ কোম্পানির ঝাং শুনদে এবং বিনার পরিচালক এম লুৎফর রহমান মোল্লা বক্তব্য দেন।