কুড়িয়ে পাওয়া বকটি জসিমের মায়ার কাছে বারবার ফিরে আসে
ছয় মাস ধরে জসিমের মাছের দোকানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ফিরে আসে কানি বকটি
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি · শ্রীপুর, গাজীপুর
প্রকাশ:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া গ্রামের মাছ বিক্রেতা জসিম উদ্দিনের (৩০) সঙ্গে এক কানি বকের বন্ধুত্বের ঘটনাটি এলাকায় বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। চকপাড়ার মেডিক্যাল মোড়ে অবস্থিত তাঁর মাছের দোকানেই বকটি নিয়মিত সময় কাটায়। সকালে উড়ে গিয়ে জলাশয় বা খোলা মাঠে সময় কাটিয়ে সন্ধ্যায় জসিমের কাছে ফিরে আসে পাখিটি। কোনো প্রকার খাঁচা বা শিকল ছাড়াই বকটি জসিমের কোলে বা মাছ বিক্রির টেবিলে নিশ্চিন্তে বসে থাকে।
বিজ্ঞাপন
জসিম উদ্দিন জানান, প্রায় ছয় মাস আগে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে ১০ থেকে ১২ দিন বয়সী বকের ছানাটি পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তখন থেকেই তিনি পরম যত্নে ছানাটিকে লালন-পালন করছেন। দোকান খোলার পর বকটি মুক্তভাবে উড়ে গেলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সে দোকানের ভেতরেই অবস্থান করে। জসিম বলেন, ‘ছোট থাইক্যা পাখিডারে লালন–পালন করছি। এহন ওর প্রতি আমার অনেক মায়া লাগে। প্রতিদিন নিজের হাতে মাছ খাওয়াই। অনেকে আইসা কয়, বকটা বেইচা দিতে। কিন্তু আমি বেইচা দিমু না। আমি তো তাকে ভালোবাসি।’
পাখিটির নিরাপত্তা নিয়ে অনেকে সতর্ক করলেও জসিম তাতে কান দেননি। বকটির আচরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি কারও কথা কানে নিই না। সে যেহেতু আমারে ভালোবাইসা প্রতিদিন সন্ধ্যায় আসে, আমিও তারে ভালোবাসি। আমি তো তারে বন্দী করি নাই, কোনো দিন করবও না। সে তার মতো সকালে উড়ে যায়, আবার সন্ধ্যায় আমারে আপন মনে কইরা আশ্রয়ের জন্য আসে।’
স্থানীয় পরিবেশকর্মী সাইদ চৌধুরী মনে করেন, পাখিটি এখন জসিমের মায়ায় পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘জসিম কানি বকটিকে বন্দী করে রাখেননি। আমার মনে হয়, পাখিটি জসিমের মায়ায় পড়েছে। এ জন্যই সারা দিন উড়ে বেড়িয়ে সন্ধ্যায় তাঁর কাছে চলে আসে। পশুপাখিরা তাদের নিজস্ব পরিবেশে স্বাধীনভাবে বাঁচুক।’