সাত ব্যান্ডের মিলনমেলা, রাত ১০টায় মঞ্চে জেমস
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে অংশ নিয়েছে দেশের সাত জনপ্রিয় ব্যান্ড
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজন করা হয় ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই কনসার্টে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা)। আয়োজনে দেশের জনপ্রিয় সাতটি ব্যান্ড—নগরবাউল, মাইলস, ওয়ারফেজ, ফিডব্যাক, আর্টসেল, শিরোনামহীন ও মেকানিক্স অংশ নিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বেলা সাড়ে তিনটায় মেকানিক্স ব্যান্ডের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কনসার্ট শুরু হয়। প্রায় ৪০ মিনিটের এই পরিবেশনায় তারা ‘অপরাজেয়’, ‘নিয়তি’, ‘ছিন্ন পৃষ্ঠা’, ‘শুভ্র শহর’ ও ‘বিস্ময়’—এই পাঁচটি গান পরিবেশন করে। মেকানিক্সের দলনেতা ও কণ্ঠশিল্পী আফতাবুজ্জামান ত্রিদিব বলেন, ‘মেকানিক্স সব সময় চায় গানের মাধ্যমে মানুষ যেন অনুপ্রাণিত হয়। আমরা মানুষের কথা, প্রতিবাদের কথা বলতে চাই। সমাজের নানা অসংগতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গানের মাধ্যমেই আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানিয়ে যেতে চাই।’ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সংগ্রামের দিনগুলো স্মরণ করে ইতিবাচক কিছু অর্জনে অনুপ্রাণিত হওয়াই তাঁদের প্রত্যাশা।
মেকানিক্সের পর মঞ্চে আসে শিরোনামহীন ব্যান্ড। ‘পাখি’ গান দিয়ে শুরু করে তারা একে একে শোনায় ‘দুর্গম গিরি কান্তার-মরু’, ‘মা’, ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’, ‘এই অবেলায়’ ও ‘আবার হাসিমুখ’। শিরোনামহীনের দলনেতা, বেজ গিটারিস্ট ও গীতিকার জিয়াউর রহমান বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এই আয়োজনে সহযোগিতা করছে বামবা। নিজেদের আয়োজন বলে এর আনন্দ ও পরিবেশও আলাদা। শৃঙ্খলার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি এই আয়োজনের সফলতা কামনা করেন।
শিরোনামহীনের পর মঞ্চে পরিবেশনা করে আর্টসেল ও ফিডব্যাক। ফিডব্যাক তাদের পরিবেশনা শুরু করে ‘সে কি তুমি’ গান দিয়ে। এছাড়া ওয়ারফেজ ও মাইলস ব্যান্ডও মঞ্চে তাদের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে। মাইলস তাদের পরিবেশনায় ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘চাঁদ তারা’, ‘পিয়াসী মন’, ‘সে কোন দরদিয়া’, ‘নীলা’, ‘ধিকিধিকি’ ও ‘ফিরিয়ে দাও’ গানগুলো শোনায়।
কনসার্টস্থলে দুপুরের পর থেকেই শ্রোতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড়ে মুখর ছিল পুরো এলাকা। বিশেষ করে বিএনপির র্যালি শেষে শ্রোতাদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পায়। রাত ১০টায় মঞ্চে ওঠেন নগরবাউল জেমস। শুরুতেই তিনি ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিয়ো না’ গানটি পরিবেশন করেন।
বিজ্ঞাপন
আয়োজনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বামবার সহসভাপতি এবং ওয়ারফেজের শেখ মনিরুল আলম বলেন, উন্মুক্ত স্থানে এত বড় আয়োজনে বিপুল দর্শক সামলানো চ্যালেঞ্জের। ব্যান্ড নির্বাচন থেকে সাউন্ড, লাইট, মঞ্চের কারিগরি ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা। শ্রোতারা যেন উৎসবের আমেজে আনন্দের সঙ্গে গান উপভোগ করতে পারেন, সেটিই তাঁদের লক্ষ্য।
আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই আমাদের এই আয়োজন।’ তিনি জানান, মানুষ যেন আনন্দের মধ্য দিয়ে বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করতে পারে, সে জন্য জেলার শিল্পকলা একাডেমিগুলোতেও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কনসার্ট ঘিরে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।