পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যে শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি গমন ও পাসপোর্ট প্রদান সম্ভাবনা
হাসিনার পাসপোর্টের দাবি ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আলোকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক · ঢাকা
প্রকাশ:
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পলাতক সন্ত্রাসী এবং প্রত্যাবর্তন নয়। তিনি বলছেন, তাঁর হস্তান্তর চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হবে।
বিজ্ঞাপন
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর সময় হুমায়ুন কবীরকে সাংবাদিকরা পাসপোর্ট সংক্রান্ত প্রশ্ন করেন।
হুমায়ুন কবীর জুলাই গণ‑অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ড নিয়ে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের বিষয়কে ‘হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “এখানে কি শ্বশুরবাড়ি রংপুরে বেড়াইতে আসবে যে তাঁরে পাসপোর্ট দেব, আর পাসপোর্ট দিয়ে আসবে? শেখ হাসিনা হচ্ছেন পলাতক সন্ত্রাসী। স্বৈরাচার, একটা পালিয়ে যাওয়া টেররিস্ট; এখানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে, তাঁকে কি নরমাল কমার্শিয়াল ট্রাভেলার হিসেবে দেখব যে পাসপোর্ট দেব? আসেন, আসিয়া আপনার শ্বশুরবাড়ি রংপুর বেড়াইয়া যান। আমাদের অ্যাকটিভ এক্সট্রাডিশন ট্রিটি আছে টেররিস্টদের ধরার, ক্রিমিনালকে ধরার। সন্ত্রাসী আর অপরাধীকে ধরতে পাসপোর্ট লাগে না, এটা হস্তান্তর হয়।”
ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা করা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবীর জানান, তিনি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক থেকে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে এসেছেন, তাই বিষয়টি এখনো তাঁর জানা নেই। তিনি পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের বিষয়টাই ‘হাস্যকর লাগল’ বলে মন্তব্য করেন।
জুলাই গণ‑অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলার বিচার চলমান।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং মৃত্যুর সংখ্যাকে নিয়ে তাঁর আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন।
ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে তাকে ফেরত দেওয়ার দাবি ঢাকা বারবার জানিয়ে আসছে, তবে দিল্লি থেকে কোনো উত্তর না পাওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ার পর্যালোচনা চলছে।
হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১১ জনই পলাতক। শেখ হাসিনা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গত জুলাই মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘তাঁর (শেখ হাসিনা) প্রত্যর্পণের বিষয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আর আইনি প্রক্রিয়াগুলো বিদ্যমান। সুতরাং এখানে পাসপোর্ট দেওয়ার বা হস্তান্তরের প্রয়োজন নেই। ...বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে কার্যকর থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের প্রত্যর্পণের সুযোগ রয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
জুলাই হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এই রায়টি জুলাই গণ‑অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলায় শাসিত হয়েছে।