অনেক অজানা বিষয় নিয়ে কথা বলার ইঙ্গিত
অভিনয়শিল্পী ফেসবুকে পোস্টে শুটিং‑এর আগের বাদ দেওয়ার সমস্যার কথা বলেছেন
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
গত ২৯ অক্টোবর পারসা ইভানা ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নাটকের কাস্টিং‑এ প্রযোজকদের অপেশাদারত্বের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুটিংয়ের আগমুহূর্তে কখনো কখনো অভিনেতাকে বাদ দেওয়া হয়, যা শিল্পীদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
বিজ্ঞাপন
পারসা ইভানা গতকাল সোমবার দুপুরে জানান, তিনি সাম্প্রতিককালে পাশের দেশের একটি পডকাস্ট দেখেছিলেন যেখানে জ্যেষ্ঠ অভিনেতা ও লেখকরা নাটকের গুণ‑দোষ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করছিলেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের নাটকেও এধরনের আলোচনা দরকার। ‘আমাদের দেশে যদি এ রকম কোনো পডকাস্টে কোনো নাটক নিয়ে বসা হয়, তাহলে অসংখ্য ভুল পাওয়া যাবে। অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলা যাবে, যেগুলো সাধারণত আমাদের দেশে কেউ বলেন না। ওই জায়গা থেকেই আমি পোস্টটি করেছি।’
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পোস্টের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং নাটকের নির্মাণ ও কাস্টিং‑এ পেশাদারিত্ব বাড়ানোর তাগিদ। পারসা ইভানা বলেন, ‘মেকিং ও কাস্টিংয়ের দিক থেকে আমাদের আরেকটু সচেতন থাকা উচিত।’
‘একসাথে আলাদা’তে ইয়াশ‑পারসা কখনো কোনো চরিত্র নির্দিষ্ট শিল্পীকে ভেবে লেখা হয়; কিন্তু শুটিং শুরুর আগে শেষ মুহূর্তে বদলে যায় সিদ্ধান্ত। পারসা ইভানা এ বিষয়ে জানান, ‘আমার সঙ্গেও এ রকম হয়েছে। বলা হয়েছে, আমাকেই লাগবে, চরিত্রটা আমার জন্যই লেখা। শেষ মুহূর্তে হয়তো প্রযোজক বা অন্য কেউ আমাকে নিতে চান না। কিংবা অন্য কোনো কারণে কাস্টিং পরিবর্তন হয়ে যায়। যেটা খুবই বিরক্তিকর।’
তিনি বিশ্বাস করেন, এ ধরনের চর্চা বন্ধ হলে বাংলাদেশের নাটক আরও উন্নত অবস্থানে পৌঁছাবে। তার মতে, দেশের নাটকের গল্পগুলো শক্তিশালী, তবে নির্মাতা ও প্রযোজকদের ব্যক্তিগত পছন্দের বদলে কাজের মানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পারসা ইভানা যোগ করেন, ‘আমি তো আসলে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করিনি। কারও নামও নিইনি। তারপরও যদি কেউ পারসোনালি নিয়ে নেন, তার মানে তাঁদের সমস্যা আছে। আমার কাজ, আমার পরিশ্রম কোনো না কোনোভাবে আমার কাছে ফেরত আসবেই, যদি আমি এটা ডিজার্ভ করি। কে আমাকে নিয়ে কী মনে করলেন, এই পোস্টের কারণে কে আমাকে কাজে নিলেন বা নিলেন না, সেটা নিয়ে আমি ভাবছি না।’
বিজ্ঞাপন
ব্যাচেলর পয়েন্টের একটি মৌসুমে ‘ইভা’ চরিত্রে অভিনয় করে পারসা ইভানা দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট করার পর লাইফ অনেকটাই বদলে গেছে। এখন কোনো ইভেন্টে গেলে হাজার হাজার মানুষ আমাকে দেখতে আসেন। যে জিনিসটা আগে আমি পাইনি, এই লেভেলে পাইনি—ওই জায়গা থেকে অবশ্যই আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আর্টিস্ট হিসেবে একটা অন্য রকম স্বীকৃতি আমি পেয়েছি।’
পারসা ইভানা বড় পর্দায় নিজের স্থান তৈরি করার স্বপ্নেও আছেন। তিনি বলছেন, ‘সিনেমা করার ইচ্ছা কার না থাকে? নিজেকে বড় পর্দায় দেখা, সবাই মিলে প্রিমিয়ার—প্রত্যেক আর্টিস্টেরই একটা ড্রিম থাকে। হাজার হাজার মানুষ হলে গিয়ে টিকিট কেটে আমাকে দেখবেন, এটা প্রত্যেক শিল্পীরই স্বপ্ন।’
তিনি সিনেমা নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্ক্রিপ্ট ও চরিত্রের গভীরতাকে অগ্রাধিকার দেন। পারসা ইভানা উল্লেখ করেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, ওই স্ক্রিপ্টগুলো থেকে আমার পাওয়ার কিছু নেই। যেদিন আমার কাছে মনে হবে যে এই ক্যারেক্টারে আমি অনেক কিছু দিতে পারব, সেদিনই অভিনয় করতে চাই। ওরকম স্ক্রিপ্ট, ওরকম ডিরেক্টর, ওরকম রাইটারের সিনেমাতেই আমি অভিনয় করতে চাই।’
গত ছয়‑আট মাসে তিনি পাঁচটি নাটকের শুটিং শেষ করেছেন এবং মিস্টার বাদল নাটকে অভিনয়ের জন্য প্রশংসা পেয়েছেন।