প্রধানমন্ত্রী চান খুলনা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে
বাগেরহাট থেকে খুলনা পথে রূপসার তিলকে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিস্তারিত বক্তব্য
খুলনা জেলা প্রতিনিধি · খুলনা
প্রকাশ:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট থেকে খুলনা পথে রূপসার তিলক এলাকায় একটি পথসভা থেকে খুলনা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত শিল্পবেল্ট গঠন এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি এ কথা রূপসার তিলকে এক পথসভায় বলেন এবং ভবিষ্যতে অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যাপারে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘মোংলা বন্দরে যে সক্ষমতা আছে, সেই সক্ষমতা আমরা আরও বৃদ্ধি করতে চাই। যেন বন্দর আরও বড় হয় এবং এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। যার ফলে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়’।
অবস্থানীয়দের দাবি ও বিরোধী দলের মন্তব্যের ওপর তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘আমরা দেখেছি, কারা যেন বলত, এ অঞ্চলে সবকিছু তারা করেছে। কিন্তু আমি আসার পথে দেখলাম, এলাকার মানুষের দাবি এয়ারপোর্ট, এলাকার মানুষের দাবি ফোর লেন রাস্তা, এলাকার মানুষের দাবি রেলের ব্যবস্থা করা এবং বন্দরের উন্নয়ন করা। আমার প্রশ্ন, এই কাজগুলো যদি বাকি থেকে থাকে, এই কাজগুলো যদি না হয়ে থাকে, তাহলে এত বছর কী কাজ হয়েছে এলাকার উন্নয়নে’।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এলাকার উন্নয়ন গত এক যুগের বেশি সময় ধরে স্থবির রয়েছে এবং অতীতে রাজনৈতিক চর্চা, ভোটের অধিকার ও কথার অধিকার কেড়ে নেওয়া, গুম-খুন, অর্থ-সম্পদ লুটপাট এবং শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যাংকের ক্ষতি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি।
খুলনা অঞ্চলের শিল্পায়ন সংক্রান্ত তারেক রহমানের মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই খুলনা অঞ্চল একসময় কারখানার অঞ্চল ছিল। বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে গেছে’।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বলছেন, বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার খুলনা থেকে পঞ্চগর্হ পর্যন্ত পুরো শিল্পবেল্ট গঠন করতে চায় এবং গত দুই সপ্তাহের মধ্যে দুবার বাগেরহাট ও খুলনা অঞ্চলে গিয়ে এই পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু এই মোংলা পোর্টকে ডেভেলপ করব না, আমরা শুধু সমৃদ্ধ করব না, আমরা একই সঙ্গে এই এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য এই পুরো বেল্টকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, অর্থাৎ বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ যা যা প্রয়োজন, আমরা ধীরে ধীরে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে খুলনা থেকে বাগেরহাট, কুষ্ঠিয়া, চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের শেষ জেলা পর্যন্ত যাতে কলকারখানা তৈরি হয়, এই অঞ্চলের মানুষ যাতে কাজ করে বেঁচে থাকতে পারে এবং এই অঞ্চলের মানুষের যাতে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়’।
ইতিহাসিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পূর্বে আমরা দেশের মানুষকে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, পৃথিবীতে এখন দুটি যুদ্ধ বিরাজ করছে, এই যুদ্ধের মধ্যেও আমরা সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। যেসব ওয়াদা আমরা দেশের মানুষের কাছে দিয়েছিলাম, পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে সেই সব ওয়াদা আমরা পূরণ করার চেষ্টা করছি’।
এর পর প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (দ্বিতীয় মৌসুম)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পূর্বে তিনি বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে একটি পথসভা থেকে একই বিষয়ের ওপর বক্তব্য জানাতেন।