কাগজে কাটার ব্যথা কেন এত তীব্র
হেলথলাইন জানিয়েছে কাগজের ক্ষত কেন তীব্র ও কীভাবে ঘরে সঠিকভাবে চিকিৎসা করবেন
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও কাগজে হাত কেটে যেতে পারে। অফিসে কাজ করার সময়, পড়ার টেবিলে বই বা খাতা পাতা ওলটানোর সময় কিংবা কোনো নতুন কাগজ ঠিক করার মুহূর্তে হঠাৎ করেই আঙুল কেটে যেতে পারে। এই ছোট ও হালকা কাটাছেঁড়া তেমন বড় কোনো বিপদ না আনলেও কাজের সময় এটি অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে কী করা উচিত বা ঘরে বসেই কীভাবে এর যত্ন নেওয়া যায়, তা জানা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
বেশি ব্যথা লাগার কারণ আমাদের পুরো শরীরে শত শত স্নায়ু বা নার্ভ ছড়িয়ে আছে, তবে হাত ও আঙুলের মাথায় এই স্নায়ুর শেষপ্রান্তগুলো খুব কাছাকাছি ও ঘন হয়ে সাজানো থাকে। শরীরের অন্য যেকোনো অংশের তুলনায় আঙুলে স্পর্শ বা ব্যথা অনুভবের ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি, যা ২০১৪ সালের এক গবেষণাতেও প্রমাণিত হয়েছে। স্নায়ু ঘনত্ব বেশি হওয়ায় কাগজ দিয়ে একটুখানি কাটলেও তাতে ব্যথা বেশি লাগে।
পাশাপাশি, হাত ও আঙুলের ভেতরে রক্তনালি বা কৈশিক নালিগুলোও খুব ঘন হয়ে থাকে, ফলে কাগজ দিয়ে কাটলে রক্তপাতও হতে পারে। কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে কাগজের কাটার ক্ষত আরও বেশি যন্ত্রনাদায়ক হতে পারে কিংবা শুকাতে বেশি সময় নিতে পারে। নিউরোপ্যাথির মতো সমস্যা থাকলে শরীরের ব্যথার অনুভূতি পুরো বদলে যেতে পারে, এমন রোগীরা আঙুল কাটা বুঝতে না পারলেও ক্ষত বড় সমস্যায় রূপান্তরিত হতে পারে।
ডায়াবেটিস থাকলে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে কাগজের কাটার মতো ছোটখাটো ক্ষত সহজে শুকাতে পারে না এবং নিরাময় ক্ষমতা কমে যায়। তাই শারীরিক জটিলতা থাকলে কাগজে আঙুল কাটলেও দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।
কাগজে আঙুল কেটে যাওয়া বড় কোনো দুর্ঘটনা নয়; সাধারণত কোনো চিকিৎসা ছাড়াই দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি নিজে সেরে যায়। তবে ক্ষত দ্রুত ও ভালোভাবে সেরে তুলতে ঘরে বসেই কিছু সহজ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
হাত পরিষ্কার রাখা জরুরি; কাগজ দিয়ে আঙুল কাটা সঙ্গে সঙ্গেই সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিলে ক্ষতের ময়লা দূর হয় এবং ইনফেকশনের ঝুঁকি কমে। ক্ষত পুরোপুরি না শুকানো পর্যন্ত হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস বজায় রাখুন।
ব্যান্ডেজ লাগিয়ে রাখা ক্ষতকে ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে এবং কিবোর্ড বা দরজার হাতল ধরা সময় পুনরায় কাটাছেঁড়া রোধ করে। বড় ক্ষত বা বেশি ব্যথা হলে ব্যান্ডেজ ব্যবহার করুন এবং ভেজা বা নোংরা হলে তা পরিবর্তন করুন।
গ্লাভস পরা বিশেষ করে বাসন ধোয়া, রান্না করা বা বাগান করার সময় আঙুলের ক্ষতকে জীবাণু ও পানির সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করে, ফলে ক্ষত দ্রুত সেরে ওঠে।
কয়েক দিন ধরে ক্ষতস্থানের দিকে খেয়াল রাখুন; যদি লালচে ভাব বেড়ে যায়, ফুলে যায়, ব্যথা বাড়ে, পুঁজ বা পানি পড়ে বা ক্ষত গরম অনুভূত হয়, তবে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এই লক্ষণগুলো ইনফেকশন বা সংক্রমণের সংকেত দেয়।
বিজ্ঞাপন
কাগজে কাটা রোধের সহজ উপায় হল ত্বক শুষ্ক থাকলে কাগজের ধার সহজে কেটে যায়, তাই হাত নরম ও আর্দ্র রাখতে হ্যান্ড ক্রিম, লোশন বা বাম ব্যবহার করুন, বিশেষ করে ঠান্ডা আবহাওয়া বা হাত ধোয়ার পর।
প্রতিদিন অনেক কাগজ নিয়ে কাজ করলে ল্যাটেক্স গ্লাভস ব্যবহার করা যায়; এটি ত্বক ও কাগজের মধ্যে সুরক্ষার ঢাল হিসেবে কাজ করবে। তাড়াহুড়া করে কাজ করলে কাগজের ধারে ত্বক কেটে যায়, তাই ধীরস্থিরভাবে কাজ করুন এবং হাত দিয়ে কাগজ ছিঁড়ে না, লেটার ওপেনার ব্যবহার করুন।
১ ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে ইলন মাস্ক যা যা করতে পারবেনকখন ডাক্তারের কাছে যাবে
শেষ কথা, কাগজে আঙুল কাটা একটি সাধারণ ঘটনা, তবে আঙুলের স্নায়ুর ঘনত্ব বেশি থাকায় সামান্য কাটার পরেও তীব্র ব্যথা হয়। সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ক্ষত সেরে যায়; সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগিয়ে ব্যান্ডেজ ব্যবহার করলে দ্রুত আরাম পাবেন। ব্যথা না কমলে বা ক্ষতস্থানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যান।