ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক: পদত্যাগ করলেন আরও এক বিচারপতি
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে গঠিত ১৯টি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্থবির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল থেকে নতুন করে পদত্যাগ করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। গত শুক্রবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নিকট পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে একই প্রক্রিয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট চারজন বিচারপতি এসআইআর ট্রাইব্যুনাল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, রাজ্যে ভোটারদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য মোট ১৯টি এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যেখানে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের অভিযোগ, প্রায় ৩০ লাখ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত মার্চ মাসে নির্বাচন কমিশন ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ২২ লাখ ভোটারের আপিল শুনানি চলমান রয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলার আপিল মামলাগুলো নিষ্পত্তির দায়িত্বে ছিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু ও ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই জেলায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ায় মামলার চাপ তৈরি হয়েছে। বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় দৈনিক প্রায় ২২ কিলোমিটার যাতায়াতের ঝক্কি ও মামলার অধিক চাপের কথা উল্লেখ করে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল এটি দুই থেকে তিন মাসের সাময়িক ব্যবস্থা হবে, কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন।
পরপর দুজন বিচারপতির পদত্যাগের ফলে মুর্শিদাবাদে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের আপিল নিষ্পত্তির কাজ এখন পুরোপুরি থমকে গেছে। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে লাখ লাখ মামলার নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি ট্রাইব্যুনালগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন। দীর্ঘ যাতায়াত ও নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে প্রযুক্তিগত ত্রুটিসহ বিভিন্ন জটিলতায় ট্রাইব্যুনালগুলোতে মামলার জট দিন দিন বাড়ছে, যা লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।