ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়ে আইজেনকটের আহ্বান
সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিনের সময় পেয়েছেন সাবেক এই সেনাপ্রধান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব পাওয়ার পর আইজেনকট জানান, ‘যে কারও জন্য আমার দরজা খোলা।’ গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় সরকার গঠনের এই জটিল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের সময় গাদি আইজেনকট বলেন, ‘আমরা এক জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে আছি। ইসরায়েল রাষ্ট্র এমন এক জায়গায় যাচ্ছে, যেখান থেকে ফিরে আসার উপায় নেই। আমাদের একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠন করতে হবে। এর জন্য সৃজনশীল এবং ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিকে গভীরভাবে বোঝেন, এমন যে কারও জন্য আমার দরজা খোলা এবং আমার হাত আন্তরিকভাবে ও সানন্দে প্রসারিত।’
আইজেনকট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের অতি ডানপন্থী পার্টির প্রতি সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেবল তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে নেতানিয়াহুর শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে আইজেনকট বলেন, ‘আমরা এক ভয়াবহ কূটনৈতিক সংকটের মধ্যে আছি। এমনকি আমাদের নিকটতম বন্ধু ও কৌশলগত মিত্ররাও বলছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আবার বিবেচনা করা দরকার।’
নির্বাচনে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৬১টি আসনের প্রয়োজন। অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেয়েছে এবং তাদের জোটের মোট আসন ৫৩টি। এই জোটের শরিক ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) কোনো পক্ষকে সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় নেতানিয়াহু সরকার গঠনের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন। সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট আগামী ২৮ দিন সময় পাবেন।