ঘরে তৈরি চুলের তেল তৈরির সহজ পদ্ধতি
ক্যাস্টর, জলপাই ও নারকেল তেল মিশ্রণ ও এসেনশিয়াল তেল ব্যবহার করে শুষ্ক চুলে কার্যকর সুরক্ষা
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
শোভন মেকওভার বিউটি ক্লিনিক অ্যান্ড স্যালনের কসমেটোলজিস্ট শোভন সাহা জানান, চুলের যত্নে তেলের ধরণ ও ব্যবহার পদ্ধতি দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যোগ করেন, চুলের ধরন ও মাথার ত্বকের প্রয়োজন বুঝে একাধিক তেল মিশিয়ে বিশেষ মিশ্রণ তৈরি করা যায়।
বিজ্ঞাপন
ঘরে তৈরি নারকেল তেল তৈরির জন্য ছোট আকারের তেল নিষ্কাশনযন্ত্র ব্যবহার করতে হবে এবং ভাল মানের নারকেল বাছাই করে যন্ত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী তেল বের করা উচিত। একই পদ্ধতিতে শর্ষে থেকেও তেল নিষ্কাশন করা সম্ভব, তবে চুলের জন্য নারকেল তেল বেশি উপযোগী। তেল তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে এবং তৈরি তেল শুকনা পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।
চুলের যত্নে দুই‑তিন তেল মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়; উদাহরণস্বরূপ ১০০ মিলিলিটার মিশ্রণ তৈরিতে ২০ মিলিলিটার ক্যাস্টর অয়েল এবং ৮০ মিলিলিটার জলপাই তেল মেশানো যায়। ক্যাস্টর অয়েল ঘন হওয়ায় জলপাই তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার সহজ হয়, আর নারকেল তেল শুষ্কতা ও ভঙ্গুরতা কমাতে সহায়ক। তবে স্কাল্পে খুশকি, চুলকানি বা লালচে দাগ থাকলে তেল নির্বাচনের আগে কারণ জানার জন্য চর্মরোগবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রোজমেরি, টি ট্রি ও ইউক্যালিপটাসের এসেনশিয়াল অয়েল চুলের যত্নে ব্যবহার করা যায়, তবে এগুলো সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করলে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জি হতে পারে। তাই প্রথমে নারকেল বা জলপাই তেলের মতো ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত। কোন এসেনশিয়াল অয়েল কতটুকু মেশাতে হবে তা তেলের ধরন ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে এবং ব্যবহার করার আগে ছোট অংশে পরীক্ষা করা উত্তম।
ভেষজ উপাদান ব্যবহার করতে চাইলে নারকেল বা জলপাই তেলের সঙ্গে শুকনা পাতা ও ফুল মিশিয়ে ইনফিউশন করা যায়; উদাহরণস্বরূপ নিমপাতা, গাঁদা ফুল, ল্যাভেন্ডার ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। পাতা ও ফুল ভালোভাবে শুকিয়ে পরিষ্কার, সম্পূর্ণ শুকনা পাত্রে রেখে তার ওপর ক্যারিয়ার অয়েল ঢেলে পাত্রটি বন্ধ করে রাখলে তেল প্রস্তুত হয়। এই প্রক্রিয়ায় আর্দ্রতা এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাত্রে পানি ঢুকে গেলে তেলে ছত্রাক ও জীবাণু জন্মাতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তৈরি ভেষজ তেল অল্প পরিমাণে তৈরি করে ব্যবহার করতে হবে; যদি তেলের গন্ধ, রঙের পরিবর্তন বা ছত্রাকের লক্ষণ দেখা দেয় তবে তা ফেলে দেওয়া উচিত। ভেষজ উপাদান যোগ করলেও তেল জীবাণুমুক্ত বা বেশি কার্যকর হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। চুলের শুষ্কতা ও ভঙ্গুরতা কমাতে তেল উপকারী হতে পারে, তবে সঠিক তেল নির্বাচন, পরিমিত ব্যবহার ও পরিচ্ছন্ন সংরক্ষণ তিনটি বিষয় মেনে চলতে হবে।
চোখে কাজল দেওয়ার ৫ ভিন্ন স্টাইল