খেলার মাঠের জমি কিনতে সাড়ে ৪ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার
দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের খেলার মাঠটি ১৮০ শতাংশ জমিতে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি · দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল
প্রকাশ:
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের শিশুরা ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে খেলাধুলা করত, কিন্তু আবাদ শুরু হলে তা বন্ধ হয়ে যেত। এই সংকট কাটাতে গ্রামের বাসিন্দারা চাঁদা তুলে মাঠের জন্য জমি কেনেন। তাদের এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, মাঠের বাকি জমি কেনার জন্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ রোববার দুপুরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবুপুরে খেলার মাঠের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী জমি কেনার অর্থের জোগান দিচ্ছে সরকার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বাবুপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও দেলদুয়ারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি তাদের ডেকে এনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং সরকারি সহায়তার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
দেলদুয়ারের দেউলী ইউনিয়নের এই গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিমধ্যে ৫৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। এর সঙ্গে জমির মালিক আরও ১ শতাংশ জমি দান করেছেন, ফলে বর্তমানে মোট ৬০ শতাংশ জমি রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাঠের জন্য মোট ১৮০ শতাংশ জমি প্রয়োজন। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাকি ১২০ শতাংশ জমি কিনতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা লাগবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাকি জমি কেনার জন্য সরকার ৪ কোটি ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর এই গ্রামবাসীর উদ্যোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন উদ্যোক্তারা জানিয়েছিলেন, তারা আরও জমি কিনে মাঠটি বড় করতে চান। সরকারি সহায়তার সিদ্ধান্তে তাদের সেই উদ্যোগ এবার আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, খেলার মাঠের জন্য যা যা প্রয়োজন, তা করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশেই স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ডেকে সরকারি সহায়তার কথা জানানো হয়েছে। বাকি জমি কেনার অর্থ সরকার দেবে।
বিজ্ঞাপন
খেলার মাঠ তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম মুঠোফোনে বলেন, গ্রামবাসী নিজেদের অর্থে মাঠের জন্য জমি কিনেছেন। এখন সেই জমিসহ মোট ১৮০ শতাংশ জায়গায় সরকার মাঠ তৈরি করে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগে সরকার এভাবে পাশে দাঁড়াবে, এত বড় একটি মাঠ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করবে, তা কখনো ভাবিনি। আমরা পুরো গ্রামবাসী এতটাই আনন্দিত যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’