নেপাল প্রিমিয়ার লিগে কী চলছে ও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স
কাঠমান্ডুর কীর্তিপুরে চলমান এই টুর্নামেন্টে সাকিবের পাশাপাশি খেলছেন আরও ৯ বাংলাদেশি ক্রিকেটার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
কাঠমান্ডুর কীর্তিপুরে এখন ব্যাট-বলের লড়াই চলছে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন ১০ জন ক্রিকেটার। তাঁদের মধ্যে কেউ তরুণ, কেউ অভিজ্ঞ। কারও ব্যাটে রানবন্যা বইছে, কেউ বল হাতে উইকেটের দেখা পাচ্ছেন, আবার কেউ এখনো নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এই অভিযান নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিজ্ঞাপন
২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করা এনপিএলের এটি তৃতীয় আসর। গত ১৬ অক্টোবর আইসিসির স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবারের আসরটি আগের চেয়ে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। টুর্নামেন্টে ডেভিড ওয়ার্নার, আন্দ্রে রাসেল, ডেভিড ম্যালান, মঈন আলী, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানও খেলছেন এই লিগে। এছাড়া এবারই প্রথম ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএস যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাচ্ছেন খেলোয়াড়রা।
টুর্নামেন্টে মোট আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল অংশ নিচ্ছে। দলগুলো হলো বিরাটনগর কিংস, চিতওয়ান রাইনোস, জনকপুর বোল্টস, কর্নালি ইয়াকস, কাঠমান্ডু গুর্খাস, লুম্বিনি লায়ন্স, পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স ও সুদূরপশ্চিম রয়্যালস। লিগ পর্বে প্রতিটি দল অন্য সাত দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে, যেখানে মোট ২৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল প্লে-অফে উন্নীত হবে। কোয়ালিফায়ার-১, এলিমিনেটর, কোয়ালিফায়ার-২ ও ফাইনাল মিলিয়ে মোট ৩২টি ম্যাচের আয়োজন থাকছে এই লিগে।
লিগ পর্ব চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর ১৭ নভেম্বর প্রথম কোয়ালিফায়ার, ১৮ নভেম্বর এলিমিনেটর, ১৯ নভেম্বর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২১ নভেম্বর। সব ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে কীর্তিপুরের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড।
বাংলাদেশের ১০ ক্রিকেটারের মধ্যে তরুণ আরিফুল ইসলাম, জিশান আলম, রিপন মণ্ডলদের সঙ্গে আছেন সাকিব আল হাসান, সাইফ হাসান ও মেহেদী হাসানের মতো পরিচিত মুখেরা। ব্যাট হাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন আরিফুল ইসলাম। কর্নালি ইয়াকসের হয়ে তিন ম্যাচে ১৮৮.৮৮ স্ট্রাইকরেটে ১১৯ রান করেছেন তিনি, যা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের তালিকায় তাঁকে তৃতীয় অবস্থানে রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
তালিকায় আরিফুলের ঠিক পরেই আছেন সাইফ হাসান। জনকপুর বোল্টসের হয়ে তিন ম্যাচে ১১২ রান করেছেন তিনি, যার মধ্যে গতকালই খেলেছেন ৭১ রানের একটি ইনিংস। সাকিবের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে বলা যায়, পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের হয়ে চার ইনিংসে তিনি করেছেন মাত্র ২৯ রান। তবে বল হাতে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে চার ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছেন তিনি, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
একই দলের হয়ে খেলা মেহেদী হাসান চার ইনিংসে ৬৬ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন দুটি উইকেট। অন্যদিকে, সাইফ হাসান ব্যাট হাতে ১১২ রান এবং বল হাতে চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করছেন। এছাড়া আকবর আলী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও রিপন মণ্ডলরা এখনো নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেননি। সামনে লিগ পর্বের বাকি ম্যাচ এবং প্লে-অফ থাকায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সামনে নিজেদের নতুন করে চেনানোর সুযোগ রয়েছে।