আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের মুখোমুখি হচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।
বিদায়ের এই আবহ এরই মধ্যে স্পর্শ করেছে জাতীয় দলের ক্যাম্পকে। সতীর্থরা কীভাবে তাদের অধিনায়ককে বরণ করে নিচ্ছেন, সেটিরই কিছু ভেতরের খবর প্রকাশ করেছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
রোববার সন্ধ্যায় ক্যাম্পে এসে পৌঁছান মেসি। মার্তিনেস জানান, জাতীয় দলের আবাসে এক বারবিকিউ (আসাদো) পার্টির মাধ্যমে শুরু হয়েছে এই বিদায় আয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে যে সামান্য সময়টুকু ওর বাকি আছে, তার প্রতিটি মুহূর্ত আমরা ওকে আগলে রাখতে চাই।
কথা দিয়ে কথা রেখেছেন এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। রোববার সন্ধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি, যেখানে দেখা যায় মেসির বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে খেলোয়াড়রা বারবিকিউ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মার্তিনেস আরও যোগ করেন, আমরা চেষ্টা করছি ওকে আদরে-ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতে, যেন এই প্রতিটি মুহূর্ত সে উপভোগ করতে পারে। আমরা ওকে জড়িয়ে ধরে, চুম্বন দিয়ে ওর মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছি।
মেসির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’কে মার্তিনেস বলেন, আমি সবসময় ওকে সেরাটা দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি, ও সেটা জানে এবং আমাদের এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই কথা হয়। ও যা আকুলভাবে চেয়েছিল, তা অর্জনে সাহায্য করতে পারাটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সম্মান। ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার, এবং ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ যে আমিও ওর এই পথচলার একজন সঙ্গী হতে পেরেছি।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, আমি শুধু ওকে উপভোগ করতে এবং ওর মুখে হাসি দেখতে চাই।
বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের কষ্ট এবং এরপর অবসরের ভাবনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে চেলসি গোলরক্ষক বলেন, বিশ্বকাপ ফাইনাল হারার ক্ষতটা আমাকে খুব গভীরভাবে আঘাত করেছিল। সেই যন্ত্রণাটা দীর্ঘ সময় আমাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। সেই কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসতেই ক্লাবের আবহ পরিবর্তন করার দরকার ছিল আমার, এবং আমি সেটা পেরেছি। এখন জাতীয় দলে ফিরে নিজেকে বেশ চাঙ্গা ও আনন্দিত মনে হচ্ছে। দিনশেষে নিজের দেশ ও পরিবারকে প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না, আর সেটা আমাকে সেরা উপায়েই করে যেতে হবে।
গত সামার ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ মুহূর্তে অ্যাস্টন ভিলা ছেড়ে চেলসিতে যোগ দেন মার্তিনেস। এরপরই যেন নতুন উদ্দীপনা ফিরে পান তিনি এবং ২০৩০ বিশ্বকাপ চক্রকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মেসি-পরবর্তী যুগ নিয়ে তার সংযোজন, ওর চলে যাওয়াটা অবশ্যই একটা বড় শূন্যতার সৃষ্টি করবে, তবে আমাদের দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যাদের ব্যক্তিত্ব অনেক দৃঢ়।








মন্তব্য