উয়েফা নেশনস লিগে টানা তৃতীয় ম্যাচে জালের দেখা পেলেন গনসালো রামোস। পর্তুগিজ এই স্ট্রাইকার যেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আত্মাকেই ধারণ করে মাঠে নেমেছিলেন। দেশের জার্সিতে তুলে নিয়েছেন ১৪তম গোল, যেখানে প্রতি ৯২ মিনিটে তার গোলসংখ্যা একটি। সত্যিই দুর্দান্ত এক পরিসংখ্যান।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে নরওয়ের বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে হোর্হে জেসুসের দল। আর তাতেই গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দল ছাড়ার পর পর্তুগালের প্রথম ম্যাচটি ছিল দৃষ্টিনন্দন ফুটবল আর দারুণ সব গোলের পসরা, বিশেষ করে প্রথমার্ধে। পরের পর্বে যেতে হলে নরওয়েকে নিজেদের খেলায় উন্নতি করতে হতো। তারকায় ঠাসা পর্তুগালের বিপক্ষে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই এস্তাদিও দো ড্রাগাওয়ে এসেছিল তারা। তবে জেসুসের অধীনে পর্তুগাল শুরু থেকেই সরাসরি আক্রমণের কৌশল বেছে নেয়, ম্যাচটিকে পরিণত করে গতির এক উন্মুক্ত লড়াইয়ে।
ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ক্রিস্টোফার আয়েরের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিট পরই স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান জোয়াও ক্যানসেলো।
এরপর ৭৯ মিনিটে জয়সূচক গোলটি আসে রামোসের পা থেকে। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে গোল পেলেন তিনি। এর আগে ডেনমার্কের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে এবং নরওয়ের বিপক্ষে আগের দেখায় ২-১ গোলের জয়েও জালের দেখা পেয়েছিলেন এই তারকা।
রামোসের এমন উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের প্রশংসায় স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘মার্কা’ শিরোনাম করেছে, ‘গনসালো রোনালদোর জন্ম হয়েছে: ক্রিশ্চিয়ানো জার্সি গায়ে চাপিয়ে পর্তুগালকে পরের পর্বে তুললেন গনসালো রামোস।’
এদিকে, কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে বিবাদের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে পর্তুগাল শিবির ছেড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাকে পুরোটা সময় বদলি বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এরপর ডেনমার্ক ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আল-নাসরের সাবেক এই কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো খেলোয়াড় বা ফুটবলের অন্য কেউ তার আদর্শ বা পরিকল্পনা বদলাতে পারবে না। জেসুসের এমন মন্তব্যই মূলত ক্ষুব্ধ করেছে ডনকে।








মন্তব্য