খাবার শেষে এলাচ: মুখের সতেজতা নাকি হজমেও উপকারী?
খাবারের পর এলাচ চিবানোর অভ্যাস দীর্ঘদিনের হলেও এর স্বাস্থ্যগত উপকারের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
স্বাস্থ্য ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
খাবারের পর একটি এলাচ চিবিয়ে মুখ সতেজ করার অভ্যাস অনেকেরই দীর্ঘদিনের। বিরিয়ানি কিংবা কাবাবের মতো মসলাদার খাবারের পর এলাচের সতেজ সুবাস মুখের স্বাদ বদলে দেয় এবং খাবারের পর থেকে যাওয়া গন্ধ দূর করতে ভূমিকা রাখে। তবে মুখের সতেজতা ছাড়াও এই ছোট্ট মসলা হজমে স্বস্তি দিতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এলাচের কিছু প্রাকৃতিক যৌগের সম্ভাব্য হজম-সহায়ক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হলেও এসব উপকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পিওর ফ্যাক্ট।
বিজ্ঞাপন
এলাচের পরিচিত সুবাসের উৎস হলো এর অপরিহার্য তেল বা এসেনশিয়াল অয়েল। এতে সিনিওল (১,৮-সিনিওল) ও টারপিনাইল অ্যাসিটেটের মতো সুগন্ধি যৌগ থাকে। এলাচের জাত, উৎপাদন এবং সংরক্ষণের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এসব উপাদানের পরিমাণে পার্থক্য দেখা যায়। ঐতিহ্যগতভাবে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে খাবারের পর এলাচ চিবানোর প্রচলন থাকলেও এর সুগন্ধি যৌগ মানুষের হজমপ্রক্রিয়ায় সরাসরি কতটা প্রভাব ফেলে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
অনেকেরই খাবারের পর পেট ভার লাগা, গ্যাস কিংবা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়। ঐতিহ্যগত খাদ্যসংস্কৃতিতে এই অস্বস্তি কমাতে এলাচ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। পরীক্ষাগারে গবেষণায় এলাচের কিছু যৌগের মসৃণ পেশি শিথিল করার প্রভাব দেখা গেছে। পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে থাকা মসৃণ পেশি খাবার এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। তবে পরীক্ষাগারের এই ফলাফল সরাসরি মানুষের শরীরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই এলাচ খেলে হজমের সমস্যা দূর হবে, এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
এলাচে থাকা উদ্ভিজ্জ যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কারণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ প্রক্রিয়ার প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে পরীক্ষাগারে কোনো যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রম দেখা গেলেই স্বাভাবিক পরিমাণে এলাচ খেয়ে সমপরিমাণ স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এলাচের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। একে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে না দেখে সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি সুগন্ধি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিযুক্ত।
এলাচের বীজ চিবানোর সময় মুখে লালা নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা খাবার গিলতে সাহায্য করে এবং মুখের অম্লতা সাময়িকভাবে প্রশমিত করে। খাবারের পর এলাচ চিবালে এর সুবাস মুখে সতেজ অনুভূতি তৈরি করে। তবে শুধু এলাচ চিবালেই খাদ্যনালির অ্যাসিড পুরোপুরি দূর হয় না। যাঁদের নিয়মিত বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এলাচ নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা নয়। বারবার এ ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
খাবারের পর অস্বস্তি না থাকলে একটি ছোট এলাচ চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। মুখের সতেজতা ও স্বাদের জন্য এই অভ্যাস উপভোগ্য হতে পারে, তবে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। রান্নায় ব্যবহৃত এলাচ আর এর ঘনীভূত এসেনশিয়াল অয়েল এক বিষয় নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘনীভূত এসেনশিয়াল অয়েল খাওয়া উচিত নয়। হজমে স্বস্তি পেতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে ধীরে খাওয়া, খাবার ভালোভাবে চিবানো, পরিমিত আহার এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়ার মতো অভ্যাসগুলো মেনে চলা জরুরি।
এলাচের আকর্ষণ এর মিষ্টি সুবাসে এবং এর চিবানোর অভ্যাসের সঙ্গে সতেজতার অনুভূতি জড়িয়ে আছে। এর প্রাকৃতিক যৌগ নিয়ে গবেষণায় সম্ভাবনাময় কিছু বৈশিষ্ট্য উঠে এলেও হজমের সমস্যা নিরাময়ে এলাচ কতটা কার্যকর, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো পর্যাপ্ত নয়। তাই খাবারের পর এলাচ চিবাতে পারেন মুখের সতেজতা ও স্বাদের জন্য। সুস্থ হজমের জন্য সুষম খাবার, পরিমিত আহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত জীবনযাপন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।