ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনে পৌঁছাতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিমান হামলা থেকে নিজেদের আকাশসীমা রক্ষায় ইউক্রেনকে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার প্রাণঘাতী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে এই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রকে বর্তমানে একমাত্র কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর মডেলের এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর দাম পড়বে ২১০ কোটি ডলার। এই চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে মার্কিন কোম্পানি লকহিড মার্টিন এবং এই ক্রয়ের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। ইউরোপ ও কানাডায় কিয়েভের মিত্ররা এই অর্থের পুরোটা বহন করবে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, "এই প্রস্তাবিত বিক্রয় ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার শক্তি হিসেবে কাজ করা একটি অংশীদার দেশটির নিরাপত্তা জোরদার করবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা হবে"। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদানের অর্থে এই কেনাকাটার ব্যয় বহন করবে ইউক্রেন। এই অর্থ জাম্পস্টার্ট কর্মসূচি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সাপোর্ট লোনের আওতায় থাকা জাতীয় তহবিল থেকে আসবে।
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছাতে 'কয়েক বছর' লেগে যেতে পারে। জেলেনস্কি বলেন, "ইউক্রেনের এখনই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন"। শীত আসার আগে রাশিয়ার পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং গত দুই সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার 'গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে' ৩০টির বেশি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
জেলেনস্কি এর আগে জানিয়েছিলেন, জরুরি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পেতে ইউক্রেনকে প্রায় এক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে, অথচ দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছিল। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বেশ দীর্ঘ সময় লাগে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরে মাত্র ৬০০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করা হয়। এই ক্রয়াদেশে আগে থেকে মজুত থাকা ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং নতুন করে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের কথা রয়েছে, যার ফলে দ্রুত এগুলো পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম।
বিজ্ঞাপন
চলতি মাসের শুরুতে জেলেনস্কি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বিরোধের পর যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ এলো। এর আগে জুলাই মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দিতে ওয়াশিংটন 'সম্মত হয়নি', যদিও এর তিন সপ্তাহ আগে তিনি ইউক্রেনকে এ ধরনের অধিকার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির অংশ হিসেবে সে সময় রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের নতুন নেতা পাওয়ার সময় এসেছে।
২০শে অক্টোবর অসলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মস্কো। এর আগে দেশটি ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এবং পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের কিছু অংশ দখল করে নেয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আয়োজনে আটলান্টায় জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউরোপীয় কূটনীতিকেরা এবং আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার সময় তারা দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান। বৈঠকে লাভরভকে উদ্দেশ করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, "রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে আমি সরাসরি একটি কথা বলতে চাই- এই যুদ্ধে আগ্রাসী কে, তা আমরা সবাই জানি"। তিনি ইউক্রেনে নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য রুশ সরকারকে দায়ী করেন।