আসামের ধুবড়িতে উচ্ছেদ অভিযানে ৪ হাজার বাঙালি মুসলমান গৃহহীন
ধুবড়ির আলমগঞ্জে প্রায় ৭৫০টি পরিবারের বসতভিটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার আলমগঞ্জে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গত রোববার ৯ নম্বর ব্লকের প্রায় ৬৫০ বিঘা সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে প্রায় ৭৫০টি বাঙালি মুসলিম পরিবারকে। এই সরকারি অভিযানের ফলে চার হাজারের বেশি বাসিন্দা বর্তমানে গৃহহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযানে প্রায় ৬০টি বুলডোজার ব্যবহার করে বহু বছরের পুরোনো বসতিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে আসামের আইজিপি অখিলেশ কুমার সিং এবং ধুবড়ির জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ পুরো কার্যক্রমটি তদারকি করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুপরিকল্পিতভাবে কেবল বাঙালি মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোতেই এসব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ধুবড়ির জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ জানান, মোট ৮০০ বিঘা জমিতে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালত-সংক্রান্ত বিষয় বিচারাধীন থাকায় ১৫০ বিঘা জমিতে আপাতত অভিযান চালানো হয়নি। তিনি দাবি করেন, “এতে দুই বছর ধরে পরিকল্পিত একটি শিল্পপার্ক তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া যাবে।” দিবাকর নাথ আরও দাবি করেন, বাসিন্দারা বিভিন্ন ধাপে জমি জবরদখল করেছিলেন এবং অনেকেরই অন্য জায়গায় বিকল্প জমি রয়েছে। তবে স্থানীয়রা তাঁর এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আশি বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা আলী চাঁদ ফকির জানান, ১৯৬২ সালে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন ও বন্যায় ভিটেমাটি হারিয়ে তিনি গোয়ালপাড়া থেকে এখানে এসেছিলেন। তিনিসহ আরও অনেকে ১৯৭২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ‘তৌজি’ ব্যবস্থার অধীনে নিয়মিত জমির রাজস্ব পরিশোধ করেছেন। উচ্ছেদ হওয়ার পর অনেক পরিবার আত্মীয়ের বাড়ি, রাস্তার পাশে অস্থায়ী কুঁড়েঘর কিংবা নিচু চর এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন।
উচ্ছেদ চলাকালে মসজিদ, উপাসনালয় ও কবরস্থান এলাকা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। একটি দরগাহ ভাঙার সময় বুলডোজার বিকল হয়ে পড়ে এবং চালক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।