মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের জোর চেষ্টা চলছে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘কোনো এক কারণে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না। তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের এটাই শেষ দিন। আমার বিশ্বাস, আমাদের জীবদ্দশার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন এটি।’
বিজ্ঞাপন
রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট চেয়ে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে চরমপন্থী ও বিপজ্জনক প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। তাঁরা এ পর্যন্ত মনোনয়ন পাওয়া সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রার্থী।’ অভিবাসন ও ট্রান্সজেন্ডার অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটরা উগ্র কর্মসূচি ও ‘বিপজ্জনক মতাদর্শ’ অনুসরণ করছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া তিনি জানান, ‘আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের দেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করব।’
বক্তৃতার একটি বড় অংশজুড়ে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের বিভিন্ন নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন। রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কারকাজে প্রায় দেড় কোটি ডলার ব্যয় ধরা হলেও কাজটি বারবার বাধার সম্মুখীন হয়েছে বলে তিনি জানান এবং এর জন্য নাশকতাকারীদের দায়ী করেন। এদিকে নিউইয়র্ক পোস্টের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা (নির্বাচনে) দারুণ করব। তবে জিততে না পারলে আমি সবকিছুতে ভেটো দেব। একের পর এক ভেটো দেব। এরপর তারা (ডেমোক্র্যাট) আসবে, আর আমরা হয়তো কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাব।’
আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই প্রধান দলের মধ্যে লড়াই চলছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সিনেটের লড়াইও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপ অনুযায়ী, সিনেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৭টি অঙ্গরাজ্যের সব কটিতেই ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে আছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক বাধা তৈরি হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ভোটাভুটিতে প্রভাব বিস্তারসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য বিতর্কিত বিষয়ে তদন্তের সুযোগ পাবেন। এছাড়া সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের মনোনীত বিচারকদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে তাদের হাতে।