ডিজিএফআই দুই সদস্যকে সেনা আইনে একবছর কারাদণ্ড, ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ টাকা দাবি
সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯) ও ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১)কে বেসামরিক জেলে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
সেনা সূত্র জানায়, ঢাকা শহরের মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে মারধর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরে (ডিজিএফআই) কর্মরত সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯) ও ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১)কে সেনা আইনে এক বছর বেসামরিক কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কোর্ট মার্শাল দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সেনা সূত্র অনুসারে, গত ২৪ অক্টোবর মোহাম্মদপুরের এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে চাঁদাবাজির জন্য আটকে রাখার ঘটনায় ডিজিএফআইয়ের সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামানসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়। ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে গৃহীত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর এই দুই সেনাসদস্যকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেনা আইনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
পুলিশ জানায়, শ্যামলী এলাকায় ২৪ অক্টোবর রাত তিনটায় শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশের একটি টহল দল একটি গাড়ি থামায়, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানায়। গাড়ির সব যাত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে মোহাম্মদপুর থানা এলাকার বাসা থেকে অপহরণ করা হয়েছে, ফলে তারা মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, সোহেল রানা (৩২) ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী ও আনসার সদস্য, ২৪ অক্টোবর রাত ৯টায় তাকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে সোহেল এক পর্যায়ে বেরিয়ে যায়, এরপর অন্য কয়েকজন আক্রান্তকে বাসায় ঢুকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং শারীরিক আঘাত করে। ভুক্তভোগী ৭০ হাজার টাকা দিয়ে তাদের সন্তুষ্ট না হওয়ায় আবার ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়; তিনি পরিবারকে ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
রাত তিনটার দিকে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে সাদা রঙের প্রাইভেট কারে তুলে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে যায়, যেখানে তিনি চা খাবার সময় গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান এবং পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় হেফাজতে নেয়; প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়। ২৫ অক্টোবর সকাল সাতটার দিকে আল্লাহ করিম মসজিদ সমীপে আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২)কে গ্রেপ্তার করা হয়; অন্যান্য গ্রেপ্তৃতদের মধ্যে মুকুল গাজী (২৬), মাহফুজুর রহমান (২২) এবং মো. জিয়াউল ইসলাম (৩৫)ও অন্তর্ভুক্ত। মামলার অপর চার আসামীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।