মদিনার পাঁচটি ঐতিহাসিক মসজিদে ইসলামী স্মৃতি সংরক্ষিত
মসজিদে আল-ইজাবাহ, মসজিদে বিলাল, জুল হুলাইফা, আবু জর গিফারি ও আল-বুখারি মসজিদগুলোর বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
মদিনা মুনাওয়ারা—ইসলামের প্রাথমিক যুগের স্মৃতিবিজড়িত এক পবিত্র নগরী। এখানে পাঁচটি ঐতিহাসিক মসজিদ মুসলিম উম্মাহের কাছে বিশেষ মর্যাদা পায়। প্রতিটি ধূলিকণা ও গলিপথই ইসলামের সোনালি অতীতের কথা বলে।
বিজ্ঞাপন
‘ইজাবাহ’ শব্দের অর্থ দোয়া কবুল হওয়া। মদিনার ঐতিহাসিক মসজিদ ‘মসজিদে বনি মুয়াবিয়া’ বা ‘মসজিদে মুবাহালা’ নামেও পরিচিত। সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মসজিদে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে উম্মতের জন্য তিনটি দোয়া করেন; আল্লাহ তাআলা দুটো দোয়া কবুল করেন, তৃতীয়টি ইলাহি হিকমতে মঞ্জুর হয়নি। এই ঘটনার স্মরণে মসজিদটির নামকরণ ‘মসজিদ আল-ইজাবাহ’ করা হয়।
মসজিদে বনি মুয়াবিয়ার দক্ষিণ দিকে রিং রোডের নিকটে অবস্থিত ‘মসজিদে বিলাল (রা.)’। এটি ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হজরত বিলাল ইবনে রাবাহ (রা.)-এর স্মারক। মসজিদটির নিচতলায় শপিং মল ও দোকানপাট রয়েছে, আর ওপরের অংশটি নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। জিয়ারতকারীরা এখানে এসে নবীর প্রারম্ভিক আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করেন।
মদিনার আবইয়ার আলী অঞ্চলে অবস্থিত ‘মসজিদে জুল হুলাইফা’ হিজরত ও সফরের স্মারক হিসেবে পরিচিত, আর ‘মসজিদে আশ-শাজারাহ’ ও ‘মসজিদে ইহরাম’ নামেও ডাকা হয়। এটি নবী (সা.) থেকে প্রায় ১৩-১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। মূলত এটি মক্কাগামী হজযাত্রী ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য মিকাত হিসেবে নির্ধারিত, যেখানে প্রিয় নবী (সা.) ইহরাম বেঁধেছিলেন। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মুসলিম জিয়ারতকারী ও ওমরাহ যাত্রীরা এখানে ইহরাম পরিধান করেন।
মসজিদে নববি থেকে প্রায় ৮০০-৯০০ মিটার উত্তরে আবু জর গিফারি সড়কে অবস্থিত ‘মসজিদ আবু জর আল-গিফারি’ বা ‘মসজিদ আশ-শুকর’ নামে পরিচিত। মহানবী (সা.) একবার এখানে দীর্ঘ সময় সিজদা করেন, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ রহমতের সুসংবাদ লাভের পর। এই স্মরণীয় সিজদার স্মৃতিতে মসজিদটি নির্মিত হয় এবং পরে সৌদি সরকার আধুনিক স্থাপত্যে সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে।
বিজ্ঞাপন
মসজিদে নববি থেকে উত্তর‑পূর্ব দিকে অবস্থিত ‘মসজিদ আল‑বুখারি (রহ.)’ ছোট তবে চমৎকার স্থাপত্যের মসজিদ। এটি আবু জর আল‑গিফারি সড়কের সন্নিকটে এবং ঐতিহ্যবাহী জনশ্রুতি অনুযায়ী, হাদিস‑বিশারদ ইমাম বুখারি (রহ.) মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থানকালে এই এলাকায় সময় কাটিয়েছিলেন। তিনি ‘সহিহ বুখারি’ গ্রন্থের কিছু অংশ এখানে সংকলন ও সম্পাদনা করেন। গম্বুজ ও মিনার‑সংবলিত এই মসজিদ বিশ্বব্যাপী হাদিস চর্চার স্বর্ণযুগকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মদিনা মুনাওয়ারায় এই ঐতিহাসিক মসজিদগুলো প্রতিটি জিয়ারতকারীকে ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের আত্মত্যাগ ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই স্থানগুলোতে প্রতিবার ভ্রমণকারী মুসলিম উম্মাহের জন্য ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার মিশ্রণ ঘটায়।