বিদেশি আইনজীবী পর্যবেক্ষক হিসেবে আনতে পারবেন সালমান এফ রহমান
বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার নেই ট্রাইব্যুনালের
নিজস্ব প্রতিবেদক · ঢাকা
প্রকাশ:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বিদেশি আইনজীবী ‘অবজারভার’ বা পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। রোববার বিকেলে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অবজারভার’ হিসেবে বিদেশি আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে থাকতে পারবেন এবং বিচারকাজ পরিচালনায় আসামির দেশি আইনজীবীকে সহযোগিতা করতে পারবেন। তবে প্রসিকিউটর জানান, আসামিপক্ষ জানিয়েছে তারা ‘অবজারভার’ নয়, বরং বিদেশি আইনজীবীকে সরাসরি নিয়োগ দিতে চায়।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে আদালতে বক্তব্য দেন আসামি সালমান এফ রহমান। তিনি জানান, তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন এবং বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করলে তিনি জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বার কাউন্সিলে আবেদন করেন। সালমান এফ রহমান বলেন, তাঁর বিদেশি আইনজীবীও বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘খবরের মাধ্যমে জেনেছেন, বার কাউন্সিল তাঁর বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। যদিও অবজারভার আনা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।’
আইনের প্রসঙ্গ টেনে সালমান এফ রহমান বলেন, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি আটকে না রাখার নিয়ম রয়েছে। অথচ বার কাউন্সিল বিদেশি আইনজীবী না দেওয়ার কারণই জানায়নি। তিনি দাবি করেন, কারণ জানালে ট্রাইব্যুনাল যাচাই করতে পারত তা যুক্তিসংগত কি না। তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশন দাবি করছে মামলার বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে। অথচ যুক্তিতর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাকি আছে। ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের উদ্দেশ্য ছিল আসামিকে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া, তাই যুক্তিতর্কের সময় তিনি বিদেশি আইনজীবী চান।
এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আইনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে আসামি বার কাউন্সিলের অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, সালমান এফ রহমান তাঁর পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করেছেন, কিন্তু বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের নেই। তখন ট্রাইব্যুনাল জানায়, আইনে সুনির্দিষ্টভাবে বিষয়টি উল্লেখ থাকায় এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ তাদের নেই। তবে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি বার কাউন্সিল নিষ্পত্তি করেছে কি না বা কী করেছে, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশনা দিতে পারে। সংক্ষুব্ধ হলে আপিল করার সুযোগ থাকবে বলেও আদালত জানায়।
পরবর্তীতে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশি আইনজীবী ট্রাইব্যুনালের ডায়াসে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারবেন কি না, সে ব্যাপারে আইনে অনুমতির প্রয়োজন আছে। তিনি আরও বলেন, ‘একজন আইনজীবীকে সহযোগিতা (অ্যাসিস্ট) করার জন্য, মামলা রেডি (প্রস্তুত) করে দেওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তিরই অনুমতির দরকার নেই। তাঁরা যদি সত্যি বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করতে চান, তাহলে অবজারভার হিসেবে আনতে পারেন। অবজারভার হিসেবে তাঁদের আইনজীবীদের অ্যাসিস্ট (সহযোগিতা) করবেন, তাঁরা (আসামিপক্ষের বাংলাদেশি আইনজীবী) সাক্ষীকে প্রশ্ন করবেন।’