সাদা কাপড়ের দাগ তোলার উপায়: হলদেটে ভাব দূর করে ধবধবে রাখুন
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ:
নতুন কেনা সাদা শার্ট বা পাঞ্জাবি কয়েক মাস পরেই কেমন যেন ম্লান হয়ে যায়। কলার আর বগলের নিচে হলদে ছোপ, বুকের কাছে চায়ের দাগ, হাতায় তরকারির হলুদ। অনেকে তখন কড়া ব্লিচ ঢেলে দেন, তাতে কাপড় পাতলা হয়ে যায় বা উল্টো হলদেটে হয়।
বিজ্ঞাপন
সাদা কাপড়ের দাগ তোলার উপায় নির্ভর করে দাগটা কিসের, কত দিনের আর কাপড়টা কোন সুতার, তার ওপর। তবে কয়েকটি নিয়ম প্রায় সব ক্ষেত্রে খাটে। দাগ তাজা থাকতেই ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন, গরম পানি অনেক দাগ বসিয়ে দেয়। ঘামের হলুদ দাগে বেকিং সোডা ও পানির পেস্ট বা সাদা ভিনেগার মেশানো পানিতে ভেজানো কাজ করে। পুরো কাপড়ের হলদেটে ভাব দূর করতে লেবেল দেখে অক্সিজেন ব্লিচে ভিজিয়ে রাখুন, আর ধোয়ার পর কড়া রোদে শুকান।
ধোয়ার আগে কাপড়ের ভেতরের লেবেলটি একবার দেখে নিন। সুতি, লিনেন, পলিয়েস্টার, সিল্ক বা উলের কাপড়ের যত্ন এক রকম নয়।
সাদা কাপড় হলদেটে হয় কেন
শরীরের ঘাম আর তেল সুতার ভেতরে জমে ধীরে ধীরে হলদে দাগ তৈরি করে। বগলে ব্যবহার করা কিছু ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপারস্পিরেন্টের উপাদান ঘামের সঙ্গে মিশে দাগ আরও গাঢ় ও শক্ত করে।
বিজ্ঞাপন
ধোয়ার ভুলও বড় কারণ। অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট দিলে তা পুরোপুরি ধুয়ে যায় না, সুতায় থেকে গিয়ে ময়লা টানে। রঙিন কাপড়ের সঙ্গে ধুলে হালকা রং লেগে সাদা কাপড় ধূসর হয়। পলিয়েস্টার বা মিশ্র সুতার কাপড়ে ক্লোরিন ব্লিচ দিলে উল্টো হলদে হয়ে যেতে পারে। আবার ঘামে ভেজা কাপড় কয়েক দিন ধোয়ার ঝুড়িতে ফেলে রাখলে দাগ বসে যায়।
সাদা কাপড় ধোয়ার নিয়ম
১. আলাদা ধোয়া: সাদা কাপড় সবসময় রঙিন কাপড় থেকে আলাদা করে ধুন। হালকা ঘিয়া বা অফ-হোয়াইট কাপড়ও সাদার সঙ্গে না ধোয়াই ভালো।
২. আগে ভেজানো: ধোয়ার আগে ডিটারজেন্ট মেশানো কুসুম গরম পানিতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। খুব ময়লা কলার ও হাতায় একটু ডিটারজেন্ট বা সাবান ঘষে নরম ব্রাশ দিয়ে আলতো ঘষুন।
বিজ্ঞাপন
৩. ডিটারজেন্টের পরিমাণ: প্যাকেটে লেখা পরিমাণের বেশি দেবেন না। বেশি দিলে বেশি পরিষ্কার হয় না, বরং অবশিষ্টাংশ জমে।
৪. ভালো করে ধুয়ে ফেলা: অন্তত দুবার পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন, যতক্ষণ না পানিতে ফেনা থাকে।
৫. রোদে শুকানো: সাদা সুতি কাপড় কড়া রোদে শুকালে সূর্যের আলো প্রাকৃতিকভাবে হালকা ব্লিচের মতো কাজ করে এবং জীবাণুও কমায়। সিল্ক বা রঙিন সুতার কাজ করা কাপড় উল্টো করে ছায়ায় শুকান।
৬. মেশিনে ধোয়া: ওয়াশিং মেশিন খুব বেশি ভরবেন না, কাপড় ঘোরার জায়গা না পেলে ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না।
বিজ্ঞাপন
সাদা জামার ঘামের দাগ তোলার উপায়
বেকিং সোডার পেস্ট: চার টেবিল-চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে এক-দুই টেবিল-চামচ পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট করুন। দাগের ওপর লাগিয়ে পুরোনো টুথব্রাশ দিয়ে আলতো ঘষুন, এক ঘণ্টা রেখে স্বাভাবিকভাবে ধুয়ে ফেলুন।
সাদা ভিনেগার: এক বালতি কুসুম গরম পানিতে এক কাপ সাদা ভিনেগার মিশিয়ে কাপড় আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন, তারপর সাধারণভাবে ধুয়ে নিন। ভিনেগারের গন্ধ ধোয়ার পর থাকে না।
লেবু ও রোদ: সুতি কাপড়ের দাগে লেবুর রস লাগিয়ে কয়েক ঘণ্টা রোদে রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন। রঙিন কারুকাজ বা সিল্কে এটি করবেন না।
বিজ্ঞাপন
অক্সিজেন ব্লিচ: পুরোনো বসে যাওয়া দাগ আর পুরো কাপড়ের হলদেটে ভাবে অক্সিজেন ব্লিচ বা "অক্সি" লেখা দাগ তোলার পাউডার বেশ কার্যকর। প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে কুসুম গরম পানিতে গুলে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এটি বেশির ভাগ সাদা কাপড়ে নিরাপদ, তবে সিল্ক ও উলে নয়।
একবারে দাগ না উঠলে আবার করুন। দাগ পুরোপুরি না ওঠা পর্যন্ত কাপড় ড্রায়ারে বা ইস্ত্রির গরমে দেবেন না, তাপে দাগ স্থায়ী হয়ে যায়।
দাগ অনুযায়ী সমাধান
হলুদ ও তরকারির দাগ: প্রথমে ঠান্ডা পানিতে উল্টো দিক থেকে পানি দিয়ে যতটা সম্ভব ধুয়ে ফেলুন। তারপর তরল ডিশওয়াশার বা ডিটারজেন্ট ঘষে ধুয়ে নিন। হলুদের রং সূর্যের আলোতে অনেকটা ফিকে হয়ে যায়, তাই ভেজা কাপড় সরাসরি কড়া রোদে দিন।
বিজ্ঞাপন
চা ও কফি: সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। শুকিয়ে গেলে ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রেখে বা অক্সিজেন ব্লিচে ভিজিয়ে তুলুন।
তেল ও ঘি: দাগের ওপর ট্যালকম পাউডার বা ভুট্টার আটা ছিটিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন, তেল শুষে নেবে। তারপর ডিশওয়াশিং লিকুইড ঘষে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে নিন।
রক্ত: অবশ্যই ঠান্ডা পানি। গরম পানিতে রক্তের দাগ বসে যায়। ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে সাবান ঘষে ধুয়ে নিন।
কলমের কালি: দাগের নিচে পুরোনো কাপড় রেখে ওপরে তুলায় স্পিরিট বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে চেপে চেপে কালি তুলে নিন, ঘষবেন না। তারপর স্বাভাবিকভাবে ধুয়ে ফেলুন।
বিজ্ঞাপন
ঘাসের বা কাদার দাগ: কাদা আগে শুকাতে দিন, তারপর ঝেড়ে নিয়ে ডিটারজেন্টে ধুয়ে ফেলুন। ভেজা কাদা ঘষলে আরও ছড়িয়ে যায়।
ব্লিচ ব্যবহারে সাবধানতা
ক্লোরিন ব্লিচ শুধু শক্ত সুতি বা লিনেনের সাদা কাপড়ে, লেবেলে অনুমতি থাকলে, পানিতে ভালো করে পাতলা করে ব্যবহার করুন। সরাসরি কাপড়ে ঢালবেন না, এতে সুতা পাতলা হয়ে ছিঁড়ে যায় বা দাগ পড়ে। সিল্ক, উল, স্প্যানডেক্স, পলিয়েস্টার আর রঙিন সুতার কাজ করা কাপড়ে ক্লোরিন ব্লিচ দেবেন না।
সবচেয়ে জরুরি সতর্কতা: ক্লোরিন ব্লিচের সঙ্গে ভিনেগার, অ্যামোনিয়া বা অন্য কোনো পরিষ্কারক কখনো মেশাবেন না। এতে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়, যা শ্বাসকষ্ট ও গুরুতর বিপদ ঘটাতে পারে। ব্লিচ ব্যবহারের সময় হাতে গ্লাভস পরুন, ঘরে বাতাস চলাচল রাখুন, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
বিজ্ঞাপন
সাদা কাপড় সাদা রাখার উপায়
ঘামে ভেজা সাদা কাপড় যত দ্রুত সম্ভব ধুয়ে ফেলুন, অন্তত পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন। ডিওডোরেন্ট লাগিয়ে পুরোপুরি শুকানোর পর জামা পরুন। সাদা শার্টের ভেতরে একটি পাতলা গেঞ্জি পরলে ঘাম সরাসরি শার্টে লাগে না। প্রতি কয়েকবার ধোয়ার পর একবার অক্সিজেন ব্লিচ বা ভিনেগারে ভিজিয়ে রাখলে হলদেটে ভাব জমতে পারে না। আলমারিতে রাখার আগে কাপড় পুরোপুরি শুকনো আর পরিষ্কার কিনা দেখে নিন, নইলে ভাঁজে ভাঁজে হলুদ দাগ পড়ে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
নীল দিলে কি সাদা কাপড় বেশি সাদা হয়?
বিজ্ঞাপন
নীল কাপড়ে হালকা নীল আভা দেয়, এতে হলদেটে ভাব চোখে কম পড়ে। এটি দাগ তোলে না, তাই আগে দাগ পরিষ্কার করুন। বেশি নীল দিলে কাপড় নীলচে দেখায়।
স্কুলের সাদা ইউনিফর্মের কলারের ময়লা কীভাবে তুলব?
কলারে শ্যাম্পু বা তরল ডিটারজেন্ট লাগিয়ে দশ মিনিট রেখে নরম ব্রাশে ঘষুন। শ্যাম্পু শরীরের তেল তুলতে ভালো কাজ করে। সপ্তাহে একবার বেকিং সোডার পেস্টও দিতে পারেন।
পুরোনো হলুদ হয়ে যাওয়া কাপড় কি আবার সাদা হয়?
বিজ্ঞাপন
অনেক ক্ষেত্রে অক্সিজেন ব্লিচে কয়েক ঘণ্টা বা সারা রাত ভিজিয়ে রাখলে বেশ উন্নতি হয়। তবে বহু বছরের পুরোনো বা ক্লোরিন ব্লিচে পুড়ে যাওয়া হলুদ ভাব পুরোপুরি না-ও যেতে পারে।
সাদা কাপড় কি গরম পানিতে ধোয়া ভালো?
সাধারণ ময়লা আর জীবাণু দূর করতে শক্ত সুতি কাপড় কুসুম গরম বা গরম পানিতে ধোয়া যায়। কিন্তু রক্ত, ডিম বা দুধের দাগ থাকলে আগে ঠান্ডা পানিতে দাগ তুলে নিন। লেবেলে লেখা তাপমাত্রা মেনে চলুন।