সাহসী ফটোশুটে আলোচনায় ম্যাডোনা-কন্যা লর্দেস
৩০ বছর বয়সী শিল্পী লর্দেস লিওন ‘ট্র্যাম্প স্ট্যাম্প’ গানের প্রচারণায় নজর কেড়েছেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনার মেয়ে হিসেবে লর্দেস লিওনের পরিচিতি জন্মলগ্ন থেকেই। তবে সেই পরিচয়ের বাইরে সংগীত, ফ্যাশন ও নাচ—এই তিন মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতা তুলে ধরে আলাদা অবস্থান তৈরি করতে চান তিনি। ৩০ বছর বয়সী এই শিল্পী এবার ‘ট্র্যাম্প স্ট্যাম্প’ শিরোনামের নতুন গান প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন। গানের প্রচারে সাহসী ফটোশুটেও ধরা দিয়েছেন তিনি, যেখানে খোলামেলা পোশাকে তাঁর ছবিগুলো নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংগীতজগতে লর্দেস ‘লোলা লিওন’ নামে পরিচিত। গত ৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয় তাঁর নতুন একক গান ‘ট্র্যাম্প স্ট্যাম্প’। এই গানের প্রচারণার জন্য আলোকচিত্রী এলিজাভেতা পোরোদিনার ক্যামেরায় তিনি সাহসী রূপে হাজির হন। একটি ছবিতে কালো স্বচ্ছ লেসের বডিস্যুট ও উঁচু প্ল্যাটফর্ম হিল পরে অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে পোজ দিয়েছেন তিনি। অন্য একটি ছবিতে শরীরের ওপরের অংশের পোশাক তুলে ধরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে তাঁর নিজস্ব ফ্যাশন বোধের ছাপ স্পষ্ট।
এই ফটোশুটের পেছনে শুধু চমক তৈরির উদ্দেশ্য নেই, গানটির বক্তব্যও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। লর্দেসের ভাষ্য, ‘ট্র্যাম্প স্ট্যাম্প’ মূলত নারী ও নিজের ইচ্ছেমতো জীবন যাপন করা মানুষদের ঘিরে তৈরি নেতিবাচক ধারণা থেকে মুক্ত হওয়ার গল্প। গানটিতে প্রজন্মান্তরের মানসিক ক্ষত, জাদুবিদ্যা এবং নারীত্বের বৈপরীত্য উঠে এসেছে। নিজের পারিবারিক ইতিহাসে যাঁরা কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁদের স্মরণ ও সম্মান জানানোর ইচ্ছাও ছিল তাঁর।
গানটি লিখেছেন লর্দেস ও সংগীত প্রযোজক অস্কার শেলার। প্রযোজনার দায়িত্বে থাকা শেলার এর আগে পিংকপ্যান্থারেস, লিলি অ্যালেন ও কেলেলার মতো শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। আটলান্টিক রেকর্ডস থেকে গানটি প্রকাশিত হয়েছে, যা স্বাধীন সংগীতচর্চা দিয়ে যাত্রা শুরু করা লর্দেসের ক্যারিয়ারের নতুন এক অধ্যায়।
লর্দেসের সংগীতজীবন শুরু হয় ২০২২ সালে। তখন ‘লোলাহল’ নামে তিনি প্রকাশ করেন প্রথম একক গান ‘লক অ্যান্ড কি’। শিল্পী আর্থ–আটারের স্বাধীন লেবেল ক্যামিক্যাল এক্স থেকে গানটি প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি পরিচালনা করেছিলেন আর্থ–আটার এবং কোরিওগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন লর্দেস নিজেই। একই বছর তাঁর প্রথম ইপি ‘গো’ প্রকাশিত হয়।
বিজ্ঞাপন
সংগীতের পাশাপাশি নাচ ও মডেলিংয়েও লর্দেস মনোযোগী। ২০২৪ সালে জিকিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর সংগীতচর্চার ভিন্নধর্মী দিক উঠে আসে। নিউ অরলিন্সে কয়েক দিনের শিল্পী আবাসন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে স্থানীয় জ্যাজ সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে পরিবেশনায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
২০২৬ সালে নিজের নামের পরিচয়েই সংগীত প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন লর্দেস। মে মাসে তিনি প্রকাশ করেন ‘টি–শার্ট’। ডব্লিউ সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এটি একটি অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের অভিজ্ঞতা ও সেখান থেকে বেরিয়ে আসার গল্প। গানের ভিডিওতে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের রেখেছিলেন তিনি। তাঁর মতে, বন্ধুত্ব ও পারিবারিক সম্পর্ক মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় শক্তি।
সে সময় লর্দেস বলেছিলেন, জীবনের কঠিন সময়ে বন্ধুদের পাশে পাওয়া তাঁর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নিজের শিকড় ও কাছের মানুষদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাই এখন তাঁর সংগীতচর্চার অন্যতম অনুপ্রেরণা।
ফ্যাশনজগতেও লর্দেস নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। মিউ মিউ, ইভ সাঁ লরাঁ, মার্ক জ্যাকবস, বারবেরি, ক্যালভিন ক্লেইন ও মুগলারের মতো ব্র্যান্ডের প্রচারণায় কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া ভার্সাচে ও বটেগা ভেনেতার মতো ফ্যাশন হাউসের হয়ে র্যাম্পেও হেঁটেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
নাচের প্রশিক্ষণ তাঁর শিল্পীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া হাইস্কুলে পড়াশোনার পর ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ও পারচেজ কলেজে পড়েছেন তিনি। নাচের প্রতি আগ্রহ থেকেই মঞ্চ পরিবেশনা ও কোরিওগ্রাফিতে যুক্ত হন এবং নিজের গানের ভিডিও নির্মাণেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন।
লর্দেসের ব্যক্তিগত জীবন ও সংগীতজীবনের আলোচনায় বারবার ফিরে আসে মা ম্যাডোনার প্রসঙ্গ। ২০২১ সালে ইন্টারভিউ সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাকে ‘কন্ট্রোল ফ্রিক’ বলেছিলেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর দ্রুত মায়ের কাছ থেকে আর্থিকভাবে স্বাধীন হতে চেয়েছিলেন লর্দেস। নিজের কলেজের বেতন ও প্রথম অ্যাপার্টমেন্টের খরচ তিনি নিজেই বহন করেছেন।
লর্দেসের যুক্তি ছিল, মা-বাবা সন্তানের সব খরচ বহন করলে সেটি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করে। তবে নিজের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পাওয়া অসাধারণ সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেননি। তাঁর মতে, বিখ্যাত পরিবারের সন্তান হওয়ার সুবিধা যেমন সত্য, তেমনি নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জও বাস্তব।
ম্যাডোনাও মেয়ের স্বাধীনভাবে পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। চলতি বছরের জুনে গ্রাহাম নর্টনের অনুষ্ঠানে তিনি জানান, লর্দেস দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন না। মায়ের পরিচয়ের কারণে সংগীতজগতে বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন—এমন ধারণা তৈরি হোক, তা চাননি মেয়ে।
বিজ্ঞাপন
তবে ‘দ্য টেস্ট’ গানটি তাঁদের দূরত্ব কমাতে ভূমিকা রেখেছে। ম্যাডোনার ‘কনফেশনস টু’ অ্যালবামে থাকা গানটিতে প্রথমবারের মতো মা-মেয়ে একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটি লিখেছেন ম্যাডোনা, লুর্দেস ও অ্যালবামের প্রযোজক স্টুয়ার্ট প্রাইস।
গানটিতে ম্যাডোনা মেয়ের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি অতীতের ভুলের কথাও স্বীকার করেছেন। মেয়েকে আদর্শের আসনে বসিয়ে রাখার চেষ্টার ফলে তাঁর ওপর প্রত্যাশার চাপ কতটা প্রভাব ফেলেছিল, তা বুঝতে পারেননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ম্যাডোনা। অন্যদিকে লর্দেস বিশ্বখ্যাত মায়ের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। নিজের চেহারা, পোশাক, পছন্দ ও পরিচয়ের ওপর মায়ের তারকাখ্যাতির প্রভাবের কথাও উঠে এসেছে তাঁর গানে।