বাড়িতে ঢুকে নারীর চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতন
আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, সন্তান ও আবদুর রশিদের সঙ্গে সমন্বয়ে পাঁচজন আক্রমণকারী জড়িয়ে গেছেন
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি · ঝিনাইদহ
প্রকাশ:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ৪০ বছর বয়সী হিন্দু নারীর ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে চুল কেটে পুরো শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, আক্রমণকারী পাঁচজন একসঙ্গে নারীকে মাটিতে ফেলে চুল কেটে দেন এবং গুঁড়া প্রয়োগ করেন। ভুক্তভোগী নারী রাতেই সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের মতে, আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলেকে এই আক্রমণে যুক্ত করেছে; আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি তাঁদের সহযোগিতা করেন। ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমরা জমি বিক্রি করে বাড়িতে পাকা রান্নাঘর ও গোয়ালঘর বানাচ্ছি। কিন্তু আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর স্বামীর টাকায় আমরা এই কাজ করছি। আমরা হিন্দু মানুষ বলে বাড়ির ওপর এসে এভাবে নির্যাতন করেছে।’
ভুক্তভোগীর ছেলে বললেন, ‘মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কয়েকজন মিলে মাকে মাটিতে ধরে রেখে গায়ে মরিচের গুঁড়া মাখাচ্ছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করে। আবদুর রশিদ উপস্থিত থেকে আমার মা ও আমাকে নির্যাতন করেছে।’ স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েরা মিলে ওই নারীর ওপর হামলা করেছে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় বাড়ির ওপর এসে সবাই মিলে মারধর করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবদুর রশিদ নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচয় দেন, তবে বিএনপি নেতা-কর্মীরা বলছেন তার কোনো পদ-পদবি নেই। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন; আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলেকে বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আরেকজন স্থানীয় ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।