জোর করে নালার সংস্কারকাজ করিয়ে ২০-৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ নয়নের অনুসারীদের বিরুদ্ধে
ডিবি পুলিশ জানায় তিনি কারওয়ান বাজারে মাছের আড়ত থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগে আটক
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, কারওয়ান বাজারে মাছের আড়ত থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে জানা গেছে, তিনি নিজ এলাকার আদাবরে চাঁদাবাজি, দখলসহ নানা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিংয়ে সড়ক সংস্কার কাজের সময় বাড়িগুলোর পানি ও পয়োনিষ্কাশন নালার কাজ নিজেদের লোক দিয়ে করাতে নোনের অনুসারীরা বাড়িপ্রতি ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা জোরে আদায় করেছেন। এছাড়া নির্মাণাধীন ভবন, ফুটপাতের দোকান এবং এমব্রয়ডারি কারখানা থেকে চাঁদা তোলা ও বাড়ি দখলের অভিযোগও উঠে।
আজ দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আদাবর মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কে সংস্কার কাজ চলছে; রাস্তা খুঁড়ে পানির লাইনের কাজ করা হচ্ছে। ঐ সড়কের দুই পাশে ৫০ থেকে ৬০টি বাড়ি রয়েছে, যেখানে নোনের অনুসারীরা জোরে কাজ করিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ৬৯ ও ৭০ নম্বর বাড়ির পানির ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়; টাকা দিতে না পারলে হুমকি দেওয়া হয় এবং পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জানানো হয়।
বাড়িটির তত্ত্বাবধায়ক সাজু হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাড়ির মালিক পরিচিত মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু চার-পাঁচজন এসে নিজেরা ছাত্রদল নেতা নয়নের লোক বলে পরিচয় দিয়ে কাজ করিয়ে ৫৫ হাজার টাকা বিল করেছেন; টাকা দিতে না পারলে হুমকি দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
একই সড়কের আরেকটি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী মো. শহীদুল্লাহ জানান, তাদের বাড়ির একটি লাইনের কাজের জন্য তিন ধাপে জোরে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে; প্রথমে টাকা দিতে না চাইলেও পরে বাধ্য হয়ে দিতে হয়েছে, অন্য মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করলে ১০ হাজার টাকায় শেষ হতো।
স্থানীয়দের কয়েকজনের মতে, আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন ও সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার জসিমের নেতৃত্বে ছাত্রদল নির্মাণাধীন ভবন, ফুটপাতের দোকান এবং এমব্রয়ডারি কারখানা থেকে চাঁদা তোলেন; তাদের টাকা না দিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
নয়ন হোসেন ও মনিরুজ্জামান জসিমের নেতৃত্বে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুম বাবুলের আলিফ হাউজিংয়ের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টা করা হয় বলে ওই বিএনপি নেতার অভিযোগ। মাসুম বাবুলের অনুসারীরা জানান, নয়নেরা বাড়িটি দখল না করলেও ভাঙচুর করে।
বাড়ি দখল করার প্রচেষ্টার ভিডিও ফুটেজে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি দেখা যায়; এক পর্যায়ে মাসুম বাবুলের অনুসারীদের সঙ্গে নয়নের অনুসারীদের সংঘর্ষ বাধে, পরে বাড়ির ফটক দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং জানালার কাচ ভাঙা দেখা যায়। একই ফুটেজে ছাত্রদল সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আবির হোসেন, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, নেতা জাকির হোসেন এবং ১০০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাদেক হোসেনের মুখ দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
মনিরুজ্জামান মজুমদার বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে, প্রথম আলোতে বলেন তিনি মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন; কোনো চাঁদাবাজি বা দখলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বিলুপ্ত হওয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, নয়নকে প্রথমে আদাবরের চাঁদাবাজির ঘটনায় আটক করার কথা বলা হয়েছিল, পরে দেখা গেল কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যদি আদাবরে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকে, সেই মামলা চালু করা দরকার, তিনি আরও বলেন এটি তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পাওয়া গেলে আইনের আওতায় আনা হবে।