যাত্রাবাড়ীতে মাদক অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা: ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ১৪ নম্বর আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার মামলায় এই আদেশ দিয়েছেন আদালত
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ১৪ নম্বর আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও পুলিশের যৌথ মাদকবিরোধী অভিযানে হামলা ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগে করা মামলায় ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মহিন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
কারাগারে পাঠানো ২৬ আসামিরা হলেন আজমল (৪০), সোলাইমান (৪০), শান্ত (২৪), জসীম উদ্দিন (২২), সজিবুর রহমান আকবর (১৯), ইকবাল মিয়া (৩৬), তানভীর আহমেদ (১৮), রাশেদ (১৮), রকি আহমেদ সাগর (২৪), আলমগীর (৪৭), শরীফ (২৫), সালাম (৩২), কাল্লু মিয়া (৩৬), সুমন (৪২), ফারুক (৩৯), অপু (২৫), জুয়েল (২৬), সাদ্দাম হোসেন (৩২), ইয়াছিন (২২), চাঁন মিয়া (৪৮), ফালান (৪৬), আব্দুল করিম (৪৫), গোলাম রাব্বী (১৮), ছিদিক (৪৬), মিনু (৪০) ও শিল্পী বেগম (৫০)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার্সের পরিত্যক্ত ভবনের সামনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২৪৫টি ইয়াবা, ১২৯ পুরিয়া হেরোইন, দুটি বাটন মুঠোফোন ও মাদক বিক্রির ১ হাজার ৫৪০ টাকাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছিল। তবে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিতে অজ্ঞাতনামা ১২০–১৩০ জন দুষ্কৃতকারী দেশি অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিও চালায়।
পুলিশ জানায়, ওই হামলায় এসআই মোরশেদ আলী মোল্লা মাথায় জখম হন এবং নায়েক ইমদাদুল হক লোহার রডের আঘাতে আহত হন। সহকর্মীকে রক্ষা করতে গিয়ে এসআই আবু সালেহ মুসাও মারধরের শিকার হন। একপর্যায়ে সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় পুলিশ দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে অভিযানকারী দল গোলাপবাগ মাঠের দক্ষিণ কোণে অবস্থান নেয় এবং আহত তিন সদস্যকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসআরবি-১০–এর এএসআই (নিরস্ত্র) আ. আহাদ বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার জানান, মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামি ভুট্টো (২৮), নাসির (২৫), আরমান (২৭) ও আরিফ (২৪) এখনো পলাতক রয়েছেন এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।