ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান, প্রতিটি শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত "শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস"-এর প্রথম বৈঠক আজ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত। ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকটি পরিচালিত হয়, প্রধান অতিথি হিসেবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ককাসের সদস্য মোরশেদ মিলটন এমপি, এ কে এম ফজলুল হক মিলন এমপি, শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, আন্না মিন্জ এমপি এবং মাধবী মার্মা এমপি এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে শিরীন সুলতানা এমপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রুহের মাগফেরাত চেয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকে স্মরণ করে আহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশু‑বান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে নীতি‑আলোচনা, তদারকি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রধান অতিথি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি ককাসের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই ধরনের প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আইন‑প্রয়োগের যথাযথতা, বাজেট সমন্বয় এবং স্বল্প‑মেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। তাছাড়া, তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক প্রচার‑প্রচারণা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
কামাল এমপি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশে শিশু অধিকার ও সুরক্ষার জন্য বহু আইন আছে, তবে সেগুলোর বাস্তবায়নই মূল চাবিকাঠি। তিনি দলমত, শ্রেণি‑পেশা কিংবা অঞ্চলভিত্তিক কোন পার্থক্য না রেখে, প্রতিটি শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানবিক বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতিতে সকল পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে ককাসের কার্যক্রম গতিশীল করার আহ্বান জানিয়ে, শিশু অধিকার‑সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবিত আইন ও খসড়া আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা এবং নির্বাহী বিভাগে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে বেসরকারি বিলের মাধ্যমে বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করার সম্ভাবনা উল্লেখ করে, সংসদীয় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেছেন।
ডেপুটি স্পিকার নির্বাহী বিভাগকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে এবং ককাসের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে আহ্বান জানিয়ে, একটি সমন্বিত টিম হিসেবে কাজ করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ককাসের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার জন্য সকল সংশ্লিষ্টকে আহ্বান জানান, এবং ককাসের সদস্য ও অংশীদারদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার আমন্ত্রণও জানান।
বৈঠকে কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশু, পাহাড়ি অঞ্চলের শিশু, অসহায়, এতিম ও দুস্থ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার হিসেবে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, শিশু সুরক্ষায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কে যথাযথ শিক্ষা প্রদানের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা এমপি বর্তমান সরকার জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সম্মিলিত কাজের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন। তিনি শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
বৈঠকে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ও প্রতিনিধিবৃন্দ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।