স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জনের মৃত্যু
মাদ্রিদ-সেভিল রেললাইন সম্পূর্ণ বন্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪-এ পৌঁছেছে, তা কাস্তিয়া লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকার নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনা স্থানীয় সময় বুধবার সকালে ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফের মতে, দুর্ঘটনার ফলে রাজধানী মাদ্রিদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের উচ্চগতির রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় ও রেল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, সিগন্যালিং ব্যবস্থার যান্ত্রিক ত্রুটির পর ম্যানুয়াল মোডে পরিচালনার সময় একজন রেলকর্মীর মারাত্মক ভুলেই মূলত এই মর্মান্তিক বিপর্যয়টি ঘটেছে।
রাজধানী মাদ্রিদ থেকে সেভিলের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া জাতীয় রেল সংস্থা ‘রেনফে’ এবং বেসরকারি সংস্থা ‘ইরিও’-র দুটি উচ্চগতির ট্রেনের মধ্যে পেছনের দিক থেকে হওয়া এই ধাক্কায় বহু যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
স্পেনীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত রেনফে ট্রেনে প্রায় ৩৯৭ জন এবং ইরিও ট্রেনে অন্তত ১৫০ জন যাত্রী অবস্থান করছিলেন। স্বাভাবিক সময়ে রেললাইনের সুরক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হলেও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা ম্যানুয়াল বা হস্তচালিত মোডে চলে যায়।
বিজ্ঞাপন
সিগন্যাল বিকল হওয়ার পরপরই প্রাথমিক সুরক্ষাব্যবস্থার কারণে উভয় ট্রেনই লাইনে থেমে যায়; তবে ম্যানুয়াল মোডে পরিষেবা পুনরায় চালু করার সময় আদিফের এক অপারেটর অন্য একটি ট্রেনের উপস্থিতি সম্পর্কে সঠিক সংকেত পাঠাতে ব্যর্থ হন। এর ফলে রেনফের দ্রুতগতির ‘আভে’ ট্রেনটি সামনে থাকা ইরিও ট্রেনটিকে পেছন থেকে জোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার ফলে ট্রেনের ডাইনিং কার থেকে যাত্রীরা ছিটকে পড়েন, বহু মানুষের হাত-পা ভেঙে যায় এবং তারা একে অপরের ওপর স্তূপ হয়ে পড়ে; বেঁচে থাকা পর্যটকরা শিউরে উঠে যান। বহু যাত্রী ভাঙা জানালা দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে পাশের খোলা মাঠে আশ্রয় নেন।
ঘটনাস্থলে প্রথমে পৌঁছানো স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং মরদেহগুলো উদ্ধার করতে সাহায্য করেন। এছাড়াও তারা আহতদের ত্বরিত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তার পূর্বনির্ধারিত সকল বৈঠক বাতিল করে দেন এবং এক বার্তায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জানান, উদ্ধারকর্মীরা অবিরাম কাজ করছেন এবং সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।