শখ করে মাছ ধরতে গিয়ে ছয়জনের মৃত্যু
দুইজন গুরুতর আহত, হাসপাতালে ভর্তি
পাবনা জেলা প্রতিনিধি · পাবনা
প্রকাশ:
বিকেল পাঁচটায় সোনাপাতিল বিলে শিশু‑কিশোরসহ আটজন শখের বশে বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তারা বাড়ির পথে রওনা দিল, তবে পথে বজ্রপাতের আঘাতে ছয়জনের মৃত্যু ঘটল। বাকি দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে আজ শুক্রবার, পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের ঝপঝপিয়া গ্রামের সোনাপাতিল বিলের রাস্তায়।
বিজ্ঞাপন
মৃত্যুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেন গজমতিকুণ্ডা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে শাওন (২২), নলমুড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন (২২), একই গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে মিজান হোসেন (১২), নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ ইসলাম (১০), শাহাদুল ইসলামের ছেলে মো. আবদুল্লাহ (১৮) ও ইবাদুল ইসলামের ছেলে ইমন ইসলাম (১৪)। আহত দুজনের মধ্যে একজনের নাম জানা গেছে, তিনি হলেন গজমতিকুণ্ডা গ্রামের আতাপ আলীর ছেলে রিপন আলী (৩২)। মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ জানান, ‘ঘটনাটি মর্মান্তিক।
যারা মারা গেছে, আহত হয়েছে, কেউ পেশাদার মৎস্যজীবী নয়। সবাই শখের বশেই মাছ ধরতে গিয়েছিল। এর মধ্যেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
আমরা খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও দাফনের ব্যবস্থা করছি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
আহত দুজনের মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন, তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে; অপরজনের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানালেন, ‘যাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরজন আশঙ্কামুক্ত।’ আহতদের স্বজনের কণ্ঠে শোকের স্রোত বয়ে গিয়েছে; মৃত আবদুল্লাহর বাবা শাহাদুল ইসলাম কান্নার স্বরে বললেন, ‘বেটারা শখ করে মাছ ধরতি গেছিল। কী হতে কী হলো বুঝলেম না। বুকটা ফাটে যাচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন
পাবনা সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহমদ আলী সরকার বলেন, ‘মারা যাওয়া ও আহত ব্যক্তিদের সবাই কৃষক পরিবারের সন্তান’। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ‘বেজরপাতা... অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন’। এরপর রাত ৯টা ২০ মিনিটে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা হয়, তিনি বললেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি, রাস্তায় আছি। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বাড়িতে যাব। বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের প্রত্যেকের জন্য ৫০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ আছে। তাৎক্ষণিক টাকাগুলো হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনে আরও সহায়তা করা হবে।’