ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক রুটে উড়োজাহাজের ভাড়া বেশি কেন, সংসদীয় কমিটির প্রশ্ন
কমিটি ১৮টি নিরীক্ষা আপত্তি, ৭৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব অনিয়ম ও ধাকা‑কুয়ালালামপুর টিকিটের দাম কুয়ালালামপুর‑ম্যানিলার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
ধাকা থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে উড়োজাহাজের ভাড়া তুলনামূলক বেশি কেন, তা জানার জন্য জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে বৈঠক করেছিল। কমিটি ভাড়া নির্ধারণের নীতি গঠন সম্ভব কি না, তা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দেখার পরামর্শ দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং অন্যান্য সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুয়ালালামপুর থেকে ম্যানিলার দূরত্ব ধাকা‑কুয়ালালামপুরের দূরত্বের সমান, তবে টিকিটের দাম ধাকা‑কুয়ালালামপুরের টিকিট কুয়ালালামপুর‑ম্যানিলার টিকিটের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। এই পার্থক্যের কারণ ও ভাড়া নির্ধারণে কোনো নীতিমালা আছে কি না, তা কমিটি জানতে চায়।
কমিটির জবাবে বলা হয়, আন্তর্জাতিক গন্তব্যে উড়োজাহাজের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি নীতিমালা নেই; এয়ারলাইন কোম্পানিগুলো নিজে টিকিটের দাম নির্ধারণ করে। ফলে কমিটির পক্ষ থেকে ভাড়া নির্ধারণের নীতি গঠন করা যায় কি না, তা দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠকে ১৮টি নিরীক্ষা আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয় এবং কমিটি জানতে চায়, প্রতিটি আপত্তির বিপরীতে প্রমাণসহ সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা দেওয়া হবে কি না। আপত্তিগুলোর মধ্যে ত্রুটিযুক্ত উড়োজাহাজ, অচল যন্ত্রপাতি, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ক্রয়, পুরোনো উড়োজাহাজ কেনা, ঢাকা‑গুয়াংজু‑ঢাকা রুটের চার্টার্ড কার্গো ফ্লাইট ও রাজস্ব আদায়ে ৭৩৬ কোটি টাকার অনিয়ম অন্তর্ভুক্ত।
বিজ্ঞাপন
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্থাপিত নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে মোট কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা অনাদায়ি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কতজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। এছাড়া প্রমাণসহ সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
কমিটি প্রধানমন্ত্রীর ভ্রমণে ব্যবহৃত উড়োজাহাজের বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা চায়। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং আইটি সিস্টেমের দুর্বলতার ফলে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সব সময় আধুনিক উড়োজাহাজ প্রধানমন্ত্রীর ভ্রমণে দেওয়া হয় এবং এক মাসের আগে ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ করা হয় কোনো ত্রুটি আছে কি না। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির কিছু সদস্য ধাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের লিফট, সেবা ও পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একজন সদস্য বলেন, "অনলাইনে দেখা যায়, বাংলাদেশ বিমানের টিকিট নেই; কিন্তু বিমানে ওঠার পর দেখা যায়, অনেক সিট ফাঁকা।"
বিজ্ঞাপন
বিমান পক্ষ থেকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক চেক‑ইন কাউন্টার পর্যাপ্ত না হওয়ায় সময়মতো কাউন্টার বন্ধ না হওয়া, একই গেটে একাধিক ফ্লাইট চালানো, বোর্ডিং ব্রিজের স্বল্পতা, ডিপারচার ব্যাগেজ এরিয়ার জায়গার ঘাটতি, আগমনী বেল্টের কম থাকা এবং অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে মাত্র চারটি চেক‑ইন কাউন্টার থাকার কারণে ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ছিলেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।