পাবনার বেড়ায় কৃষকদের প্রাকৃতিক কৃষি সম্মাননা প্রদান
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অবদান রাখা আট কৃষক ও প্রতিষ্ঠানকে নগদ অর্থ ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে
পাবনা জেলা প্রতিনিধি · বেড়া, পাবনা
প্রকাশ:
পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানাধীন মাশুমদিয়া ইউনিয়নের দয়ালনগরস্থ দয়ালনগর বাহারুন্নেছা পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে গত ৩১ অক্টোবর ‘প্রাকৃতিক কৃষি সম্মাননা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দয়ালনগর বন্ধুসভা ও দয়ালনগর বাহারুন্নেছা পাবলিক লাইব্রেরির আয়োজনে এবং বিকে ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশ থেকে প্রায় ১৫০ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে আটজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্ষসেরা প্রাকৃতিক কৃষক হিসেবে দুজন এক লাখ টাকা করে, প্রথম রানারআপ হিসেবে দুজন ৭৫ হাজার টাকা করে এবং দ্বিতীয় রানারআপ হিসেবে চারজন ৫০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট পেয়েছেন। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন বর্ষসেরা প্রাকৃতিক কৃষক কোলে কাপড়া ও সানোয়ার হোসেন, প্রথম রানারআপ সুলতানা খাতুন ও চাষবাস, এবং দ্বিতীয় রানারআপ প্রযন্ত, দেশি ফার্ম, শাহাদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী।
অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত টাঙ্গাইলের মধুপুরের কৃষক সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফসল আবাদের নামে মাটির ক্ষতি হয়, এমন কোনো উপকরণ ব্যবহার বা কার্যক্রম করি না। এটি করা উচিতও নয়। মা ও মাটি কখনো কাউকে ঠকায় না। একে ভালোবাসলে প্রতিদান মিলবেই। আজকের সম্মাননা এর আরেকটি উদাহরণ।’
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, ‘মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা না করতে পারলে আমরা নিরাপদ থাকতে পারব না। আধুনিক কৃষির নামে অতিরিক্ত সার কীটনাশক ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। সুষম সার কীটনাশকের ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ নিয়ে গবেষণা বাড়ানোরও প্রয়োজন। সরকারও নিরাপদ কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ রক্ষার দিকে গুরুত্বারোপ করছেন। আজকের কৃষি সম্মাননার উদ্দেশ্যও এটি।’
বিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এম এ বাতেন খান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের দেশের ৩৪ শতাংশ কৃষক ক্যানসারে আক্রান্ত বলে জানা ছিল। সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, “এখন তা বেড়ে ৪০ শতাংশে উঠেছে।” এভাবে আমরা অনেকেই নানা রোগে ভুগছি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হওয়ায় এটির বিস্তার ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে নিরাপদ বা প্রাকৃতিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে না তুললে এই সংকট ঘুচবে না। তাই সার কীটনাশকের অতি ব্যবহার না করে সনাতন পদ্ধতির নিরাপদ কৃষি আবাদকে উদ্বুদ্ধ করতে আমাদের এই আয়োজন।’
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক রেলসচিব সেলিম রেজা, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির মহাপরিচালক সাইফুল আজম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এফ এম জামাল উদ্দিন, আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা মামুনুর রহমান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কনসালট্যান্ট মাহবুব আলম, অধ্যাপক ডা. এস এম আব্দুর রাজ্জাক ও পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার। এ সময় দয়ালনগর বাহারুন্নেছা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবু সায়েম প্রামাণিকসহ স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।