সৌদি ভিসা চেক করার নিয়ম: পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনলাইনে যাচাই
ট্রাভেল ডেস্ক
প্রকাশ:
সৌদি আরবে কাজ বা ভ্রমণের জন্য যাওয়ার আগে ভিসাটি আসল কি না, তা নিজে যাচাই করে নেওয়া এখন খুবই সহজ। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভিসা সেবার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট visa.mofa.gov.sa-তে পাসপোর্ট নম্বর আর জাতীয়তা দিয়ে খোঁজ করলেই ভিসার তথ্য পর্দায় চলে আসে। সেখানে দেখানো নাম, ভিসা নম্বর, ভিসার ধরন, নিয়োগকর্তা আর মেয়াদ হাতে থাকা কপির সঙ্গে মিললে ভিসাটি বৈধ ধরে নেওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরব বাংলাদেশি কর্মীদের সবচেয়ে বড় গন্তব্যগুলোর একটি। সেই সুযোগ নিয়ে ভুয়া ভিসার কারবারও কম নয়। কখনো পুরো ভিসাই জাল, কখনো ভিসা আসল হলেও পেশা বা নিয়োগকর্তা প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলে না। টাকা দেওয়ার আগে কয়েক মিনিটের এই যাচাই বড় ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে।
সৌদি ভিসা চেক অনলাইনে করার জন্য কোনো দালাল বা দোকানে যাওয়ার দরকার নেই। মোবাইল বা কম্পিউটার আর পাসপোর্ট হাতে থাকলেই চলে।
সৌদি ভিসা চেক অনলাইন: ধাপে ধাপে
১. অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যান: ব্রাউজারে নিজে visa.mofa.gov.sa লিখে ঢুকুন। কারও পাঠানো লিংকে ক্লিক না করাই নিরাপদ। ওয়েবসাইটে ভাষা হিসেবে ইংরেজি বেছে নিতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
২. ভিসা অনুসন্ধানের অপশন: মূল পাতায় আবেদন বা ভিসার তথ্য খোঁজার অপশন থাকে, সাধারণত ভিসা ইনকোয়ারি বা সার্চ নামে। মেনুর নাম মাঝে মাঝে বদলায়, তবে ভিসা খোঁজার অংশটি সহজেই চোখে পড়ে।
৩. তথ্য দিন: পাসপোর্ট নম্বর লিখুন, জাতীয়তার তালিকা থেকে বাংলাদেশ বেছে নিন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিসা নম্বর বা আবেদন নম্বরও দেওয়া যায়। এরপর নিরাপত্তা কোড পূরণ করুন।
৪. অনুসন্ধান করুন: খোঁজার বোতামে চাপ দিলে ভিসার তথ্য দেখাবে, যদি ওই পাসপোর্টের বিপরীতে কোনো ভিসা ইস্যু হয়ে থাকে।
৫. প্রিন্ট বা স্ক্রিনশট রাখুন: ফলাফলের পাতা সংরক্ষণ করুন। পরে এজেন্সির সঙ্গে কোনো বিরোধ হলে এটি প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে।
বিজ্ঞাপন
ফলাফলে কী দেখবেন
ফলাফলের পাতায় সাধারণত ভিসা নম্বর, ভিসার ধরন, প্রবেশের ধরন, ইস্যুর তারিখ, মেয়াদ, নিয়োগকর্তা বা স্পনসরের নাম ও পরিচয় নম্বর আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে পেশা দেখা যায়। প্রতিটি তথ্য মিলিয়ে দেখুন।
১. নাম ও পাসপোর্ট নম্বর: একটি অক্ষর বা সংখ্যার অমিলও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
২. ভিসার ধরন: চাকরির জন্য যাচ্ছেন অথচ ভিসা ভ্রমণ, ব্যবসা বা পারিবারিক সফরের, এমন হলে সাবধান। ভিজিট ভিসায় গিয়ে সেখানে কাজের অনুমতি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বহু প্রতারণার শুরু।
বিজ্ঞাপন
৩. নিয়োগকর্তা: যে প্রতিষ্ঠানে কাজের কথা বলা হয়েছে, স্পনসরের নাম তার সঙ্গে মেলে কি না দেখুন।
৪. পেশা: চুক্তিতে লেখা কাজ আর ভিসার পেশা এক হওয়া উচিত। ভিন্ন হলে সেখানে গিয়ে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।
৫. মেয়াদ: ভিসা ইস্যুর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হয়। মেয়াদ পেরিয়ে গেলে ভিসাটি আর ব্যবহার করা যাবে না।
সৌদি ভিসা আসল নাকি নকল: সতর্কসংকেত
বিজ্ঞাপন
সরকারি ওয়েবসাইটে খুঁজে কোনো তথ্য না পাওয়া গেলে প্রথমে নিজের লেখা তথ্য ঠিক আছে কি না দেখুন। তারপরও না পেলে ভিসাটি সন্দেহজনক ধরে নিন এবং টাকা লেনদেন বন্ধ রাখুন।
কিছু লক্ষণে বিশেষভাবে সতর্ক হোন। দালাল শুধু মেসেজিং অ্যাপে ভিসার ছবি পাঠাচ্ছেন কিন্তু ভিসা নম্বর দিচ্ছেন না, নিজের দেওয়া লিংকে ঢুকে যাচাই করতে বলছেন, কোনো লিখিত চুক্তি বা রসিদ দিতে চাইছেন না, কিংবা খুব দ্রুত পুরো টাকা দেওয়ার চাপ দিচ্ছেন। এসবই প্রতারণার পরিচিত কৌশল।
তথাকথিত ফ্রি ভিসা বা আজাদ ভিসার প্রস্তাবেও সাবধান থাকুন। এ ধরনের প্রস্তাবে বলা হয়, স্পনসরের অধীনে না থেকে যেকোনো জায়গায় কাজ করা যাবে। বাস্তবে সৌদি আইনে স্পনসর বা অনুমোদিত নিয়োগকর্তার বাইরে কাজ করা বেআইনি, ধরা পড়লে জরিমানা, আটক ও দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি থাকে।
কাজের ভিসায় যাওয়ার আগে বাড়তি যাচাই
বিজ্ঞাপন
ভিসা আসল প্রমাণিত হলেই কাজ শেষ নয়। যে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন, তার সরকারি লাইসেন্স আছে কি না, তা জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ওয়েবসাইট bmet.gov.bd-তে দেখে নিন। বৈধভাবে যেতে নির্ধারিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসার স্ট্যাম্পিং, বিএমইটির নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ আর বহির্গমন ছাড়পত্রসহ স্মার্ট কার্ড লাগে। এসব ধাপ ছাড়া বিমানবন্দরে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চাকরির চুক্তিপত্রে বেতন, কাজের সময়, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আর চুক্তির মেয়াদ স্পষ্টভাবে লেখা আছে কি না দেখুন। এজেন্সিকে যত টাকা দিচ্ছেন, প্রতিবারের রসিদ নিন। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর নিয়োগকর্তা আবাসিক অনুমতিপত্র বা ইকামা করে দেন। দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা প্রবাসীর পাসপোর্টের একটি কপি, ভিসার কপি আর নিয়োগকর্তার তথ্য সংরক্ষণ করে রাখুন, প্রয়োজনে দূতাবাসে যোগাযোগে কাজে লাগবে।
পারিবারিক ভিজিট ও অন্যান্য ভিসার ক্ষেত্রে
সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীরা অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিজিট ভিসা পাঠান। এই ভিসাও একই সরকারি ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে যাচাই করা যায়। ফলাফলে আমন্ত্রণকারী প্রবাসীর নাম ও সম্পর্ক ঠিকভাবে এসেছে কি না দেখুন। ভিজিট ভিসায় থাকার সময়সীমা পেরিয়ে গেলে জরিমানা হয়, তাই প্রবেশের দিন থেকে মেয়াদ গুনে রাখুন।
বিজ্ঞাপন
ব্যবসা বা অন্য কোনো বিশেষ ভিসার ক্ষেত্রেও যাচাইয়ের পদ্ধতি একই। ভিসার যেকোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে ঢাকার সৌদি দূতাবাসের অফিশিয়াল যোগাযোগ মাধ্যমে বা বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহায়তা কেন্দ্রে খোঁজ নিন। মনে রাখবেন, দূতাবাস বা মন্ত্রণালয়ের নামে কেউ ফোন করে টাকা চাইলে সেটি প্রতারণা।
প্রতারিত হলে কী করবেন
দেরি না করে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করুন। বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থায় লিখিত অভিযোগ দিন, সঙ্গে টাকা লেনদেনের রসিদ, মেসেজের স্ক্রিনশট, ভিসার কপি আর এজেন্সির ঠিকানা জমা দিন। যত দ্রুত অভিযোগ করবেন, টাকা উদ্ধারের সম্ভাবনা তত বাড়বে। একই প্রতারকের হাতে যেন আর কেউ না পড়েন, সে জন্য পরিচিতদেরও সতর্ক করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিজ্ঞাপন
শুধু পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে কি সৌদি ভিসা চেক করা যায়?
হ্যাঁ, পাসপোর্ট নম্বর আর জাতীয়তা দিয়ে সাধারণত খোঁজা যায়। কিছু ক্ষেত্রে ভিসা নম্বর বা আবেদন নম্বর দিলে ফল আরও নির্দিষ্টভাবে আসে।
সৌদি ভিসা চেক করতে কি টাকা লাগে?
না, সরকারি ওয়েবসাইটে যাচাই বিনা মূল্যে করা যায়। যাচাইয়ের নামে কেউ টাকা চাইলে সতর্ক হোন।
বিজ্ঞাপন
ভিসা চেক করে কোনো তথ্য আসছে না, এর মানে কী?
তথ্য ভুল লেখা হতে পারে, ভিসা এখনো ইস্যু না-ও হতে পারে, অথবা ভিসাটি ভুয়া হতে পারে। নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত টাকা লেনদেন বন্ধ রাখুন এবং এজেন্সির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চান।
উমরাহ ভিসাও কি একইভাবে যাচাই করা যায়?
উমরাহ ভিসার তথ্যও অনেক ক্ষেত্রে একই ধরনের সরকারি ব্যবস্থায় দেখা যায়। অনুমোদিত হজ ও উমরাহ এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করুন এবং ভিসার কপি নিজে যাচাই করুন।
বিজ্ঞাপন
ভিসা আসল, কিন্তু বিমানবন্দরে আটকে গেলাম কেন?
বিএমইটির ছাড়পত্র বা স্মার্ট কার্ড না থাকা, ভিসার ধরন আর যাত্রার উদ্দেশ্যে অমিল, কিংবা কাগজপত্রে তথ্যের গরমিলের কারণে এমন হতে পারে। যাত্রার আগে সব কাগজ একসঙ্গে মিলিয়ে নিন।