দুবাই ভিসা চেক করার নিয়ম: আমিরাতের ভিসা অনলাইনে যাচাইয়ের উপায়
ট্রাভেল ডেস্ক
প্রকাশ:
দুবাইয়ের ভিসা হাতে পাওয়ার পর প্রথম কাজ হলো সেটি আসল কি না এবং এখনো বৈধ আছে কি না, তা নিজে যাচাই করা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার এই সুবিধা অনলাইনে খোলা রেখেছে। পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা আর ভিসার ধরন জানা থাকলে ঘরে বসে মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে কয়েক মিনিটেই ভিসার অবস্থা দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
দুবাই ভিসা চেক করার নিয়ম মূলত দুটি সরকারি উৎসের ওপর দাঁড়িয়ে। আমিরাতের ফেডারেল পরিচয়, নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বন্দর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ, সংক্ষেপে আইসিপি, তাদের ওয়েবসাইট icp.gov.ae থেকে সব আমিরাতের ভিসার তথ্য দেখার সুযোগ দেয়। আর দুবাই থেকে ইস্যু হওয়া ভিসার জন্য দুবাইয়ের অভিবাসন দপ্তর জিডিআরএফএর ওয়েবসাইট gdrfad.gov.ae ব্যবহার করা যায়।
দালাল যত আশ্বাসই দিক, এই সরকারি উৎসে মিলিয়ে না দেখা পর্যন্ত কোনো ভিসাকে নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রতিবছর বহু মানুষ ভুয়া ভিসার ফাঁদে পড়ে টাকা হারান, কেউ কেউ বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসেন। যাচাইয়ে খরচ নেই, সময়ও লাগে সামান্য।
যাচাইয়ের প্রস্তুতি ও আইসিপির ওয়েবসাইটে ধাপগুলো
ভিসা চেক করতে খুব বেশি তথ্য লাগে না, তবে প্রতিটি অক্ষর নির্ভুল হতে হবে। পাসপোর্টের একটি অক্ষর ভুল দিলে ফলাফলে কিছুই আসবে না, তখন অনেকে ভুল করে ভাবেন ভিসাটিই ভুয়া।
বিজ্ঞাপন
১. পাসপোর্ট নম্বর: পাসপোর্টের তথ্য পাতায় যেভাবে লেখা আছে, ঠিক সেভাবে ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে।
২. পাসপোর্টের মেয়াদ শেষের তারিখ: কিছু পদ্ধতিতে এটি চাওয়া হয়।
৩. জাতীয়তা: তালিকা থেকে বাংলাদেশ বেছে নিতে হয়।
৪. ভিসার ধরন: ভ্রমণ বা ভিজিট ভিসা, কাজের বা রেসিডেন্স ভিসা, নাকি এন্ট্রি পারমিট, তা ভিসার কাগজে লেখা থাকে।
বিজ্ঞাপন
৫. ভিসা বা ফাইল নম্বর: ভিসার কপিতে থাকা নম্বরটি কাজে লাগতে পারে, বিশেষ করে দুবাইয়ের ভিসার ক্ষেত্রে।
তথ্য হাতে নিয়ে এবার মূল কাজ। আইসিপির ওয়েবসাইটের সেবা-মেনুর নাম মাঝে মাঝে বদলায়, তবে মূল প্রক্রিয়া সাধারণত একই থাকে। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে আমিরাতের ভিসা চেক সহজে করা যায়।
১. সরকারি সাইটে ঢুকুন: ব্রাউজারে icp.gov.ae লিখে আইসিপির ওয়েবসাইট খুলুন। ঠিকানার বানান মিলিয়ে নিন, কারণ দেখতে একই রকম ভুয়া সাইটও থাকে।
২. পাবলিক সেবা খুঁজুন: সাধারণত লগইন ছাড়াই ব্যবহারযোগ্য সেবার মধ্যে ফাইলের বৈধতা বা ভিসা যাচাই নামে একটি অপশন থাকে। সেখানে ক্লিক করুন।
বিজ্ঞাপন
৩. খোঁজের ধরন বাছুন: ফাইল নম্বর দিয়ে নাকি পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে খুঁজবেন, তা বেছে নিন। হাতে ভিসার কপি না থাকলে পাসপোর্টের তথ্যই সহজ।
৪. তথ্য পূরণ করুন: ভিসার ধরন, পাসপোর্ট নম্বর, মেয়াদ ও জাতীয়তা দিন। নিরাপত্তা যাচাইয়ের ঘরটি পূরণ করে সার্চ দিন।
৫. ফলাফল সংরক্ষণ করুন: পর্দায় যা আসে তার একটি স্ক্রিনশট রেখে দিন। পরে এজেন্সির সঙ্গে কথা বলার সময় এটি কাজে লাগে।
দুবাইয়ের জিডিআরএফএ থেকে ভিসা স্ট্যাটাস দেখা
বিজ্ঞাপন
দুবাই আমিরাত থেকে যেসব ভিসা ইস্যু হয়, সেগুলোর তথ্য দুবাইয়ের নিজস্ব অভিবাসন দপ্তর জিডিআরএফএর কাছে থাকে। তাদের ওয়েবসাইট gdrfad.gov.ae এবং অফিশিয়াল অ্যাপে সাধারণত ভিসা বা আবেদনের অবস্থা জানার একটি সেবা থাকে।
এখানে সাধারণত ভিসা বা আবেদন নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর ও জাতীয়তা দিয়ে খোঁজ করতে হয়। দুবাই ভিসা স্ট্যাটাস দেখার সময় খেয়াল রাখুন, ভিসার কাগজে কোন আমিরাতের নাম লেখা আছে। ভিসা যদি আবুধাবি, শারজাহ বা অন্য আমিরাত থেকে ইস্যু হয়, তাহলে আইসিপির সাইটেই খোঁজা ভালো।
দুটি সাইটেই ফলাফল এক রকম হওয়া উচিত। কোথাও ভিসা পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও যাচ্ছে না, এমন হলে তথ্য আবার মিলিয়ে দেখুন। তাতেও না মিললে নিয়োগকর্তা বা এজেন্সির কাছে ব্যাখ্যা চান।
ফলাফলে কী দেখবেন
বিজ্ঞাপন
শুধু ভিসা পাওয়া গেছে দেখেই নিশ্চিন্ত হবেন না। ফলাফলের প্রতিটি অংশ ভিসার কাগজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
অবস্থা বা স্ট্যাটাস: বৈধ, সক্রিয় বা ব্যবহারযোগ্য লেখা থাকলে ভিসাটি চালু আছে। বাতিল, মেয়াদোত্তীর্ণ বা ব্যবহৃত লেখা থাকলে সেটি দিয়ে আর ভ্রমণ করা যাবে না।
মেয়াদ: ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত ইস্যুর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমিরাতে ঢুকতে হয়। ফলাফলে দেখানো মেয়াদ পেরিয়ে গেলে টিকিট কাটার আগেই নতুন ব্যবস্থা নিন।
নাম ও পাসপোর্ট নম্বর: নামের বানান আর পাসপোর্ট নম্বর হুবহু মিলতে হবে। একটি অক্ষরের অমিলও বিমানবন্দরে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
পেশা ও নিয়োগকর্তা: কাজের ভিসায় পেশার নাম বা প্রতিষ্ঠান লেখা থাকলে তা চুক্তিপত্রের সঙ্গে মেলে কি না দেখুন। দেশে বলা হয়েছে এক কাজ, ভিসায় লেখা আরেক কাজ, এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
ভুয়া ভিসা চেনার কিছু লক্ষণ
প্রতারকেরা এখন দেখতে হুবহু আসল ভিসার মতো কাগজ বানায়। তাই কাগজের চেহারা নয়, সরকারি সাইটের ফলাফলই শেষ কথা। তবু কিছু লক্ষণ দেখলে আগেভাগে সতর্ক হওয়া যায়।
দালাল যদি নিজের পাঠানো লিংকে ভিসা চেক করতে বলেন, সেটি বড় সতর্কসংকেত। আসল সাইটের ঠিকানা সব সময় সরকারি ডোমেইনে শেষ হয়। সরকারি সাইটে কোনো ফলাফল না আসা, নামের বানানে গরমিল, অস্বাভাবিক কম খরচে কাজের ভিসার প্রস্তাব, কিংবা পুরো টাকা আগেভাগে নগদে চাওয়া, এগুলোও সন্দেহের কারণ।
বিজ্ঞাপন
কেউ যদি বলেন ভিসা অনলাইনে দেখা যাবে না, শুধু বিমানবন্দরে গেলে দেখা যাবে, সেটি মেনে নেবেন না। আমিরাতের বৈধ ভিসার তথ্য সরকারি ব্যবস্থায় থাকে।
কাজের ভিসা হলে বাংলাদেশে বাড়তি যাচাই
কাজের ভিসায় আমিরাত যেতে হলে শুধু ভিসা বৈধ হলেই চলে না। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাজে যাওয়া প্রত্যেক কর্মীকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, অর্থাৎ বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র নিতে হয়। এই ছাড়পত্র ছাড়া বিমানবন্দরে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
যে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন, সেটি সরকারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কি না, তা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় বা বিএমইটির কাছ থেকে জেনে নিন। চুক্তিপত্রে বেতন, কাজের ধরন ও থাকার ব্যবস্থা লেখা আছে কি না দেখুন এবং এর একটি কপি নিজের কাছে রাখুন। টাকা লেনদেন করলে রসিদ নিন।
বিজ্ঞাপন
ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে সেখানে কাজ খুঁজে নেওয়ার প্রস্তাব এড়িয়ে চলুন। ভ্রমণ ভিসায় কাজ করা আমিরাতের আইনে নিষিদ্ধ, ধরা পড়লে জরিমানা ও দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি থাকে।
বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে শেষবার মিলিয়ে নিন
ভিসা হাতে পাওয়ার দিন একবার চেক করেছেন বলে কাজ শেষ, এমন নয়। টিকিট কাটার আগে এবং ফ্লাইটের এক-দুই দিন আগে আরেকবার সরকারি সাইটে ভিসার অবস্থা দেখে নিন। মাঝের সময়ে কোনো কারণে ভিসা বাতিল হলে আগেই জানা যাবে, অযথা টিকিটের টাকা বা বিমানবন্দরে হয়রানি এড়ানো যাবে।
ভিসার রঙিন প্রিন্ট, পাসপোর্টের ফটোকপি, ফিরতি টিকিট (ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে) এবং হোটেল বা থাকার ঠিকানার কাগজ আলাদা খামে রাখুন। মোবাইলেও সব কিছুর ছবি রেখে দিন। পরিবারের একজনের কাছে ভিসা ও পাসপোর্টের কপি রেখে যাওয়া ভালো, বিদেশে কাগজ হারালে তখন কাজে লাগে।
বিজ্ঞাপন
সাধারণ জিজ্ঞাসা
পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে কি দুবাই ভিসা চেক করা যায়?
হ্যাঁ। আইসিপির ওয়েবসাইটে সাধারণত পাসপোর্ট নম্বর, মেয়াদ, জাতীয়তা ও ভিসার ধরন দিয়ে খোঁজ করা যায়। ভিসা নম্বর হাতে না থাকলেও চলে।
ভিসা চেক করতে কি টাকা লাগে?
বিজ্ঞাপন
সরকারি সাইটে শুধু ভিসার অবস্থা দেখতে সাধারণত কোনো ফি লাগে না। কেউ এই কাজের জন্য টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন।
সাইটে কোনো ফলাফল আসছে না, তাহলে কি ভিসা ভুয়া?
সব সময় নয়। আগে পাসপোর্ট নম্বর, ভিসার ধরন ও জাতীয়তা ঠিকমতো দিয়েছেন কি না দেখুন। কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন। তারপরও না এলে এজেন্সির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চান এবং প্রয়োজনে আমিরাতের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
আমিরাতের ভিসা চেক আর দুবাইয়ের ভিসা চেক কি আলাদা?
বিজ্ঞাপন
দুবাই আমিরাতেরই একটি অংশ। আইসিপির সাইট থেকে সব আমিরাতের ভিসা দেখা যায়, আর দুবাই থেকে ইস্যু হওয়া ভিসার তথ্য জিডিআরএফএর সাইটেও পাওয়া যায়।