সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ২১ বছরে সর্বনিম্ন ফল, এগিয়ে মেয়েরা
পাসের হার ৫০.৯০% এবং জিপিএ‑৫-এ ছেলেদের অগ্রগতি
সিলেট জেলা প্রতিনিধি · সিলেট
প্রকাশ:
আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস ইয়াছমীন এ ফলাফল ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
বিলকিস ইয়াছমীন জানান, এবারের পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে ৩৬ হাজার ৫৯৭ জন পাস করেছেন এবং ১ হাজার ২০৪ জন জিপিএ‑৫ পেয়েছেন। গত বছর জিপিএ‑৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬০২ জন।
পাসের হার ও জিপিএ‑৫ দুটিই কমে, তবে লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় মেয়েদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা ছেলেদের ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশের তুলনায় বেশি। মেয়েদের মধ্যে ৫৯১ জন জিপিএ‑৫ পেয়েছেন, আর ছেলেদের মধ্যে ৬১৩ জন জিপিএ‑৫ পেয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং জিপিএ‑৫ পেয়েছেন ৯৮০ জন; মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৬ দশমিক ২৯ শতাংশ, জিপিএ‑৫ ১৭০ জন; ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, জিপিএ‑৫ ৫৪ জন।
বিলকিস ইয়াছমীন উল্লেখ করেন, এবারে সারা দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, ফলে প্রশ্নের ধরণে পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, সিলেট বোর্ডে অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং ইংরেজি, আইসিটি, ভূগোল ও রসায়নে তুলনামূলক কম পাস হয়েছে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
বিজ্ঞাপন
বিভাগভিত্তিক চার জেলার মধ্যে সিলেট জেলার পাসের হার সর্বোচ্চ ৫৭ দশমিক ৬২ শতাংশ, জিপিএ‑৫ ৯০৩ জন। এরপর হবিগঞ্জে পাসের হার ৪৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ, জিপিএ‑৫ ১০৪ জন; সুনামগঞ্জে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, জিপিএ‑৫ ৪৬ জন; মৌলভীবাজারে পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ, জিপিএ‑৫ ১৫১ জন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছেন: সিলেট ক্যাডেট কলেজ (৫০ জন), ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল এনজিএফএফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৩১ জন), সুনামগঞ্জের আইডিয়াল ভিশন কলেজ (৭ জন), মৌলভীবাজারের শমসেরনগরের বিএএফ শাহীন কলেজ (২৩৮ জন), হবিগঞ্জের মাধবপুরের ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (৩ জন) ও আজমিরীগঞ্জের হাজী আবদুল হাকিম ভূঁইয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন)।
এদিকে তিনটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি: হবিগঞ্জের লাখাইয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন), সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আলহাজ আবদুল মোতালিক হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (১৫ জন) এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের মিতালি পাবলিক হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (২১ জন)।