সন্তান জন্মের তৃতীয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যু, নবজাতক আইসিইউতে
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় ট্রাকের পেছনে ধাক্কা, পরিবারে চারজন আহত
সিলেট জেলা প্রতিনিধি · সিলেট
প্রকাশ:
গতকাল রবিবার রাত আটটার দিকে সিলেট‑ঢাকা মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিয়ে হালিমা বেগমের মৃত্যু ঘটেছে, তিনি সন্তান জন্মের মাত্র তৃতীয় দিনে মারা যান। একই সময়ে তার নবজাতক সন্তানসহ পরিবারের চারজন সদস্য আহত হন এবং নবজাতককে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
হালিমা বেগম তাজপুর ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী রাজু মিয়ার স্ত্রী; আহত ব্যক্তিরা হলেন হালিমার মা রুবেনা বেগম, শাশুড়ি শাহেনা বেগম, শ্বশুর আনহার মিয়া, ননদ ইমা বেগম এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক মুহিবুর রহমান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে তাজপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে হালিমা কন্যা সন্তান জন্ম দেন।
নবজাতকের শারীরিক অবস্থা অবনতির কারণে পরিবার রাত্রে সিলেট নগরের একটি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং অ্যাম্বুলেন্সে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে রাত আটটার দিকে কাশিকাপন এলাকায় পৌঁছে, অ্যাম্বুলেন্সটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়, ফলে হালিমা ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হালিমার মামা আলাল মিয়া জানান, “অ্যাম্বুলেন্সচালক নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।” তিনি আরও বলেন, নবজাতকের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল এবং স্থানীয় একটি ক্লিনিক থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখনই ট্রাকের ধাক্কা ঘটেছে।
আলাল মিয়া আরও ব্যাখ্যা করেন, প্রবাসী রাজু মিয়া তার বড় বোনের ছেলে এবং প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে আরেক বোনের মেয়ে হালিমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের চার মাস পর তিনি আবার প্রবাসে চলে যান, আর গত শুক্রবার তাদের ঘরে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়, যা তাদের প্রথম সন্তান। রাজু সন্তান জন্মের খবর শুনে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন, তবে আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবে থাকা রাজু মিয়াও স্ত্রীর ও শিশুর অবস্থার কথা শুনে ভেঙে পড়েছেন; আলাল মিয়া জানান, “সন্তান জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় স্ত্রীকে হারিয়েছেন রাজু, নবজাতক সন্তান হাসপাতালের আইসিইউতে।” প্রবাসে থাকা স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
আলাল মিয়া জানান, আজ সোমবার দুপুরে হালিমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে এবং আহত অন্যরা চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। পরিবারের একমাত্র কামনা এখন নবজাতক শিশুটি বেঁচে থাকা।
সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি সুমন কুমার চৌধুরী ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স দুটোই থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।