শিরোনাম সংশোধনযোগ্য নয়
হাদিসে বর্ণিত ৭০ হাজার ফেরেশতা তার জানাজায় উপস্থিত
ধর্ম ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
ইসলামি ইতিহাসে লক্ষাধিক সাহাবির মধ্যে কয়েকজনের মর্যাদা আল্লাহর অনন্য উচ্চতায় রয়েছে। মদিনার আনসার সাহাবিদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.)। তার মৃত্যুর পর একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আল্লাহর আরশ কাঁপে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
মহানবী (সা.) সুস্পষ্টভাবে সাদ ইবনে মুয়াজের অতুলনীয় মর্যাদা ঘোষণা করেছেন। সাহাবি জাবের (রা.) বলেন, নবীজি বলেছেন, ‘সাদ ইবনে মুয়াজের মৃত্যুতে দয়াময় আল্লাহর আরশ কাঁপে উঠেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮০৩)।
ইমাম নববি (রহ.) এই হাদিসের বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে লিখেছেন যে, আল্লাহর আরশ কাঁপে ওঠা মানে সাদের আত্মাকে স্বাগত জানাতে আরশ বহনকারী ফেরেশতারা আনন্দে উল্লসিত হয়েছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর আগমনে আসমানিক জগতে একটি বিশাল আনন্দোৎসবের সৃষ্টি হয়। (আন-নববি, আল-মিনহাজ শারহু সহিহ মুসলিম, ১৫/১১, দারু ইহইয়াইত তুরাস আল-আরাবি, বৈরুত, ১৩৯২ হিজরি)।
তার জানাজা দুনিয়ার কোনো সাধারণ জানাজা ছিল না; আসমান থেকে অগণিত ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে এসে তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। মহানবী (সা.) তাঁর জানাজার নামাজ পড়ানোর পর সাহাবিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘নিশ্চয়ই এই পুণ্যবান বান্দার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং তার জানাজায় এমন ৭০ হাজার ফেরেশতা উপস্থিত হয়েছে, যারা এর আগে কখনো পৃথিবীতে অবতরণ করেনি।’ (সুনান নাসায়ি, হাদিস: ২০৫৫)।
বেহেশতে সাদের রুমাল দুনিয়ার চেয়েও দামি ছিল; মহানবী (সা.) তাঁর বেহেশতি পোশাকের সৌন্দর্য দুনিয়াবাসীর সামনে উপমা হিসেবে তুলে ধরেছেন। একবার নবীজির কাছে একটি রেশমি পোশাক উপহার হিসেবে এল, যার কোমলতা ও সৌন্দর্য দেখে সাহাবিরা অবাক হলেন। নবীজি বললেন, ‘তোমরা কি এর কোমলতা দেখে বিস্মিত হচ্ছো? বেহেশতে সাদ ইবনে মুয়াজের রুমালগুলো এর চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর ও উত্তম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮০২)।
বিজ্ঞাপন
সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন হিজরতের মাত্র এক বছর আগে এবং পঞ্চম হিজরিতে খন্দকের যুদ্ধের পরপরই আত্মত্যাগ করেন। অর্থাৎ তিনি মুসলিম হিসেবে মাত্র ছয় থেকে সাত বছর জীবন যাপন করেছেন। বদর, ওহুদ ও খন্দকের যুদ্ধে তিনি নবীজির ছায়াসঙ্গী হিসেবে অটল ছিলেন, যা তাকে এই অনন্য মর্যাদা এনে দিয়েছে। খন্দকের যুদ্ধে তিনি একটি তীরের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে শাহাদাত বরণ করেন।
ইবনে কাসির (রহ.) লিখেছেন, খন্দকের যুদ্ধের মতো চরম সংকটের মুহূর্তে ইসলাম ও মুসলমানদের সুরক্ষায় সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.) যে নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করেছেন, তা তাকে আল্লাহর কাছে শহীদদের কাতারে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করেছে। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৪/১৩২, দারুল হিজর, কায়রো, ১৯৯৭)।
সাদ ইবনে মুয়াজের জীবন আমাদের জন্য এক শিক্ষণীয় বিষয়। জীবনের দৈর্ঘ্য বা ইবাদতের পরিমাণই শেষ কথা নয়; ইমানের গভীরতা, নিখাদ সততা এবং ধর্মের প্রতি নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগই আল্লাহর কাছে মানুষের আসল মর্যাদা নির্ধারণ করে।