ভারতীয় ভিসা আবেদনের নিয়ম: অনলাইন ফরম, কাগজপত্র ও জমা দেওয়া
ট্রাভেল ডেস্ক
প্রকাশ:
বাংলাদেশ থেকে ভারতের ভিসার আবেদন শুরু হয় অনলাইনে। ভারতের অফিশিয়াল ভিসা পোর্টাল indianvisa-bangladesh.nic.in-এ ফরম পূরণ করে তার প্রিন্ট কপি, পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজ নিয়ে নির্ধারিত দিনে ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রে, যা আইভ্যাক নামে পরিচিত, জমা দিতে হয়। যাচাই শেষে নির্দিষ্ট দিনে সেখান থেকেই পাসপোর্ট ফেরত নিতে হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে আবেদনের আগে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সেবা সীমিত পরিসরে চালু রেখেছে, মূলত চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনের ক্যাটাগরিতে। ভ্রমণ ভিসাসহ অন্যান্য ক্যাটাগরি কখন কতটা চালু থাকবে, তা ভারতীয় হাইকমিশন সময়ে সময়ে জানায়। তাই ফরম পূরণের আগে আইভ্যাক বা হাইকমিশনের হালনাগাদ ঘোষণা দেখে নিন।
নিচে সাধারণ নিয়মে আবেদনের ধাপ, কোন ভিসায় কী কাগজ লাগে আর কোন ভুলগুলোর কারণে আবেদন ফেরত আসে, তা তুলে ধরা হলো।
ভারতীয় ভিসার ধরন
ভারত বাংলাদেশিদের জন্য কয়েক ধরনের ভিসা দেয়। ট্যুরিস্ট ভিসা বেড়ানো ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য। মেডিকেল ভিসা চিকিৎসার জন্য, আর রোগীর সঙ্গে যাঁরা যান তাঁদের জন্য মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা। এ ছাড়া বিজনেস, স্টুডেন্ট ও ট্রানজিট ভিসা আছে। একেক ধরনের ভিসার কাগজপত্র আর যাচাইয়ের নিয়ম একেক রকম, তাই আগে নিশ্চিত হোন কোন ভিসা আপনার দরকার।
বিজ্ঞাপন
অনলাইনে আবেদনের ধাপ
১. ফরম শুরু করুন: অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে নতুন আবেদনের অপশন বেছে নিন। পাসপোর্টের ধরন, জাতীয়তা, কোন আইভ্যাকে জমা দেবেন, ভিসার ধরন আর সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ দিন।
২. আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন: প্রথম ধাপ শেষে একটি অস্থায়ী আবেদন নম্বর দেওয়া হয়। এটি লিখে রাখুন, মাঝপথে বের হয়ে গেলে এই নম্বর দিয়েই আবার ঢুকতে হবে।
৩. ব্যক্তিগত ও পাসপোর্টের তথ্য: নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ধর্ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা আর পাসপোর্টের নম্বর, ইস্যুর স্থান, তারিখ ও মেয়াদ দিন। সব তথ্য পাসপোর্টের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।
বিজ্ঞাপন
৪. ঠিকানা, পরিবার ও পেশা: বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, মা-বাবা ও স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য আর পেশা ও কর্মস্থলের বিবরণ দিন।
৫. ভ্রমণের বিবরণ: কোথায় যাবেন, কোন পথে ঢুকবেন ও বের হবেন, আগে ভারত গিয়েছেন কি না, আর ভারতে ও বাংলাদেশে একজন করে রেফারেন্সের নাম-ঠিকানা দিন। স্থলপথে গেলে কোন সীমান্ত দিয়ে যাবেন, তা ঠিকভাবে উল্লেখ করুন।
৬. যাচাই ও প্রিন্ট: সব তথ্য মিলিয়ে চূড়ান্ত জমা দিন। এরপর পূর্ণাঙ্গ ফরমটি প্রিন্ট করে নির্দিষ্ট জায়গায় সই করুন এবং নির্ধারিত মাপের ছবি লাগান।
৭. জমার তারিখ নেওয়া: আইভ্যাকে জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে তারিখ নিতে হয়। ভিসার ধরনভেদে এই পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
বিজ্ঞাপন
কী কী কাগজ লাগে
১. পাসপোর্ট: অন্তত ছয় মাস মেয়াদ থাকতে হবে এবং অন্তত দুটি ফাঁকা পাতা থাকতে হবে। পুরোনো পাসপোর্ট থাকলে সেটিও সঙ্গে নিন।
২. প্রিন্ট করা আবেদন ফরম: সইসহ, ছবি লাগানো। ছবি সাধারণত সাদা পটভূমির ২ ইঞ্চি বাই ২ ইঞ্চি মাপের হতে হয়।
৩. পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ: জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের কপি আর বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিলের মতো ঠিকানার প্রমাণ।
বিজ্ঞাপন
৪. আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ: ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্টের প্রমাণ।
৫. পেশার প্রমাণ: চাকরিজীবীদের অফিসের পরিচয়পত্র বা অনাপত্তিপত্র, ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স, শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র।
৬. মেডিকেল ভিসার জন্য বাড়তি কাগজ: ভারতের যে হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন, সেখান থেকে পাওয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা আমন্ত্রণপত্র এবং দেশের চিকিৎসকের দেওয়া রোগসংক্রান্ত কাগজপত্র।
৭. শিশুদের ক্ষেত্রে: শিশুর পাসপোর্টের পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন সনদ আর মা-বাবার পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি লাগে। শিশু যদি মা-বাবার একজনের সঙ্গে যায়, তাহলে অন্যজনের সম্মতির কাগজ চাওয়া হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
কাগজের তালিকা সময়ে সময়ে বদলায়। জমা দেওয়ার আগে আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে দেওয়া সর্বশেষ চেকলিস্ট মিলিয়ে নিন। সব কাগজ নির্দিষ্ট ক্রমে সাজিয়ে একটি ফাইলে রাখলে কাউন্টারে সময় কম লাগে। মূল কাগজ দেখানোর জন্য সঙ্গে নিন, তবে জমা দিন ফটোকপি, যদি না মূল কপি জমার নির্দেশনা থাকে।
ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে জমা ও পাসপোর্ট সংগ্রহ
নির্ধারিত দিনে সব মূল কাগজ ও ফটোকপি নিয়ে আইভ্যাকে যান। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে আইভ্যাকের কেন্দ্র আছে। প্রবেশের সময় নিরাপত্তা তল্লাশি হয়, টোকেন নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। কাউন্টারে কাগজ যাচাইয়ের পর প্রসেসিং ফি জমা দিতে হয় এবং একটি রসিদ দেওয়া হয়। রসিদে পাসপোর্ট ফেরত নেওয়ার তারিখ লেখা থাকে।
আবেদনের অবস্থা আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে আবেদন নম্বর দিয়ে দেখা যায়। নির্ধারিত দিনে রসিদ নিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন। ভিসা পাওয়ার পর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ভিসার ধরন, মেয়াদ আর প্রবেশপথ মিলিয়ে দেখুন।
বিজ্ঞাপন
স্থলপথে যাওয়ার আগে যা জানবেন
বাংলাদেশ থেকে অনেকে স্থলপথে ভারতে যান। বেনাপোল-পেট্রাপোল, আখাউড়া-আগরতলা আর বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা সবচেয়ে ব্যবহৃত পথগুলোর মধ্যে পড়ে। স্থলপথে গেলে সাধারণত ভিসায় উল্লেখিত পথ দিয়েই প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হয়। তাই আবেদনের সময় কোন সীমান্ত দিয়ে যাবেন, তা ভেবেচিন্তে লিখুন। পরে পথ বদলাতে চাইলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আলাদা আবেদন করতে হতে পারে।
সীমান্তে যাওয়ার আগে নির্ধারিত ভ্রমণ কর পরিশোধ করতে হয়, যা ব্যাংকে বা সীমান্তের নির্দিষ্ট কাউন্টারে দেওয়া যায়। পাসপোর্ট, ভিসা, ডলার এনডোর্সমেন্টের কাগজ আর ফিরতি পরিকল্পনার প্রমাণ হাতের কাছে রাখুন। সীমান্তে দুই দেশেরই ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস পার হতে হয়, ছুটির মৌসুমে এতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। মুদ্রা বদলের জন্য অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করুন এবং রসিদ রাখুন।
যেসব ভুলে আবেদন আটকে যায়
বিজ্ঞাপন
পাসপোর্ট ও ফরমের তথ্যে অমিল, ভুল মাপের বা পুরোনো ছবি, ঠিকানার প্রমাণে ভিন্ন ঠিকানা আর পেশার দাবির পক্ষে কাগজ না থাকা, এগুলোই সবচেয়ে সাধারণ কারণ। একই সময়ে একাধিক আবেদন করবেন না। দালালের মাধ্যমে জমার তারিখ কেনার প্রস্তাব এড়িয়ে চলুন, এতে প্রতারণার ঝুঁকি থাকে। ভিসা পাওয়ার আগে ফেরতযোগ্য নয় এমন টিকিট বা হোটেল বুক করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ভারতের ভিসা পেতে কত দিন লাগে?
সাধারণত জমা দেওয়ার পর কয়েক কর্মদিবস থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগে। ভিসার ধরন, আবেদনের চাপ আর যাচাইয়ের প্রয়োজনের ওপর সময় নির্ভর করে।
বিজ্ঞাপন
ভারতীয় ভিসার জন্য কি ফি দিতে হয়?
আইভ্যাকে নির্দিষ্ট প্রসেসিং ফি দিতে হয়। ফির হালনাগাদ পরিমাণ আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকে।
এখন কি ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়া যাচ্ছে?
সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা সেবা মূলত চিকিৎসা ও জরুরি ক্যাটাগরিতে সীমিত ছিল। ট্যুরিস্ট ভিসার সর্বশেষ অবস্থা জানতে ভারতীয় হাইকমিশন বা আইভ্যাকের ঘোষণা দেখুন।
বিজ্ঞাপন
মেডিকেল ভিসায় রোগীর সঙ্গে কতজন যেতে পারেন?
সাধারণত সীমিত সংখ্যক অ্যাটেনডেন্টকে ভিসা দেওয়া হয়, তাঁদের রোগীর সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। সংখ্যা ও শর্ত জানতে আবেদনের সময়ের নির্দেশনা দেখুন।
ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে কি আবার আবেদন করা যায়?
যায়। তবে আগের আবেদনে কোন কাগজ বা তথ্যের ঘাটতি ছিল, তা খুঁজে বের করে সংশোধন করে তবেই নতুন আবেদন করুন। একই ভুল নিয়ে বারবার আবেদন করলে ফল বদলায় না।