ট্রেনের সময়সূচি দেখার নিয়ম: অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও স্টেশনে খোঁজ
ট্রাভেল ডেস্ক
প্রকাশ:
স্টেশনে গিয়ে শুনলেন, আপনার ট্রেন আজ চলবে না, কারণ আজ তার সাপ্তাহিক ছুটি। অথবা পৌঁছে দেখলেন, ট্রেন ছেড়ে গেছে আধা ঘণ্টা আগে, কারণ সময়সূচি বদলেছে। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। অথচ রওনা দেওয়ার আগে কয়েক মিনিট খরচ করলেই এসব এড়ানো যায়।
বিজ্ঞাপন
ট্রেনের সময়সূচি দেখার নিয়ম এখন বেশ সহজ। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল রেল সেবা অ্যাপ এবং অনলাইন টিকিটের ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে দুই স্টেশনের মধ্যে চলা আন্তনগর ট্রেনগুলোর ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময় ও খালি আসন একসঙ্গে দেখা যায়। রেলওয়ের তথ্য বাতায়ন railway.gov.bd-তেও সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়।
লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনের ক্ষেত্রে অনলাইনে সব তথ্য সব সময় পাওয়া যায় না। এসব ট্রেনের সময় জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় স্টেশনের সময়সূচি বোর্ড, অনুসন্ধান কাউন্টার ও স্টেশনমাস্টারের দপ্তর। ফোনে জানতে চাইলে রেলওয়ের কল সেন্টার ১৩১ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।
রেল সেবা অ্যাপে সময়সূচি দেখার ধাপ
স্মার্টফোন থাকলে এটিই সবচেয়ে কাজের পদ্ধতি। অ্যাপের মেনুর নাম হালনাগাদের সঙ্গে বদলাতে পারে, তবে মূল ধাপ সাধারণত এমন:
বিজ্ঞাপন
১. অ্যাপ নামানো: প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে রেল সেবা লিখে খুঁজুন। প্রকাশক হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের নাম আছে কি না দেখে নিন, একই নামের নকল অ্যাপ থেকে সাবধান।
২. স্টেশন বাছাই: যাত্রার স্টেশন আর গন্তব্যের স্টেশন লিখুন। স্টেশনের নাম ইংরেজি বানানে খুঁজতে হতে পারে, যেমন ঢাকার জন্য কমলাপুর বা বিমানবন্দর।
৩. তারিখ দিন: যে দিন যাবেন সেই তারিখ বাছুন। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে যে ট্রেন সেদিন চলে না, সেটি সাধারণত তালিকায় আসে না।
৪. তালিকা দেখুন: ট্রেনের নাম ও নম্বর, ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর আনুমানিক সময়, যাত্রার মোট সময় আর শ্রেণিভিত্তিক খালি আসন দেখা যাবে।
বিজ্ঞাপন
৫. বিস্তারিত তথ্য: কোনো ট্রেনের ওপর চাপ দিলে অনেক সময় পথের স্টেশনগুলোর তালিকা ও যাত্রাবিরতির সময় দেখা যায়। মাঝপথের স্টেশন থেকে উঠতে চাইলে এই তথ্য কাজে লাগে।
সময়সূচি দেখার জন্য সাধারণত লগইন জরুরি না হলেও টিকিট কাটতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট লাগে। তাই অ্যাপ নামানোর সময়ই নিবন্ধন সেরে রাখা ভালো।
ওয়েবসাইট থেকে সময়সূচি দেখা
কম্পিউটার বা ফোনের ব্রাউজার থেকে eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে একই পদ্ধতিতে যাত্রার স্টেশন, গন্তব্য, তারিখ ও শ্রেণি দিয়ে খোঁজ করা যায়। ফলাফলে ট্রেনগুলোর সময় ও আসনের অবস্থা দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
রেলওয়ের তথ্য বাতায়নে মাঝে মাঝে পূর্ণ সময়সূচি, নতুন ট্রেন চালুর ঘোষণা, সাময়িক বাতিল বা সময় পরিবর্তনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। রেলওয়ে বছরে কয়েকবার সময়সূচি হালনাগাদ করে, তাই পুরোনো ডাউনলোড করা পিডিএফ বা কারও শেয়ার করা পুরোনো ছবির ওপর ভরসা করবেন না।
ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও অনানুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে ট্রেনের সময়ের তালিকা ঘুরে বেড়ায়। এগুলোর অনেকগুলো হালনাগাদ নয়। চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সব সময় রেলওয়ের নিজস্ব অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা স্টেশনের ওপর নির্ভর করুন।
লোকাল ট্রেনের সময়সূচি জানার উপায়
আন্তনগর ট্রেনের তথ্য অনলাইনে যত সহজে মেলে, লোকাল ট্রেনের তথ্য তত সহজে মেলে না। অনেক লোকাল ও কমিউটার ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয় না, ফলে অ্যাপে সেগুলো না-ও দেখাতে পারে।
বিজ্ঞাপন
১. স্টেশনের সময়সূচি বোর্ড: প্রায় প্রতিটি স্টেশনে প্রবেশপথ বা টিকিট কাউন্টারের পাশে ট্রেনের আগমন-প্রস্থানের তালিকা টাঙানো থাকে। বড় স্টেশনে ডিজিটাল ডিসপ্লেও থাকে।
২. অনুসন্ধান কাউন্টার: কমলাপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনার মতো বড় স্টেশনে আলাদা অনুসন্ধান কাউন্টার আছে। ছোট স্টেশনে টিকিট কাউন্টার বা স্টেশনমাস্টারের দপ্তরে জিজ্ঞেস করুন।
৩. কল সেন্টার: রেলওয়ের কল সেন্টার ১৩১ নম্বরে ফোন করে ট্রেনের সময় ও সাধারণ তথ্য জানা যায়। ফোন করার আগে ট্রেনের নাম বা কোন দুই স্টেশনের মধ্যে যাবেন তা হাতের কাছে রাখুন।
৪. নিয়মিত যাত্রীদের কাছ থেকে: যাঁরা প্রতিদিন একই পথে যাতায়াত করেন, তাঁরা লোকাল ট্রেনের বাস্তব সময় সবচেয়ে ভালো জানেন। তবে সেটি চূড়ান্ত না ধরে স্টেশনে মিলিয়ে নিন।
বিজ্ঞাপন
লোকাল ট্রেন প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে চলে, বিশেষ করে যেসব পথে একক লাইন বা ক্রসিং বেশি। তাই সংযোগ ট্রেন বা জরুরি কাজের আগে হাতে সময় রাখুন।
সময়সূচি পড়ার সময় যা খেয়াল রাখবেন
ট্রেনের নম্বর: প্রতিটি আন্তনগর ট্রেনের একটি নম্বর থাকে, আর যাওয়া ও ফেরার দিকের নম্বর আলাদা। একই নামের ট্রেনের ভুল দিকের সময় দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।
সাপ্তাহিক ছুটি: বেশির ভাগ আন্তনগর ট্রেন সপ্তাহে এক দিন চলে না। কোন দিন বন্ধ, তা সময়সূচিতে উল্লেখ থাকে। দুই দিকের ছুটির দিন আলাদা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
পৌঁছানোর সময় আনুমানিক: তালিকায় যে পৌঁছানোর সময় লেখা থাকে, সেটি আদর্শ অবস্থার হিসাব। কুয়াশা, লাইনের কাজ বা ক্রসিংয়ের কারণে দেরি হতে পারে।
বিশেষ সময়সূচি: ঈদ, পূজা বা বড় উৎসবে বিশেষ ট্রেন চলে এবং কিছু ট্রেনের সময় বা ছুটির দিন বদলায়। এসব সময়ে রেলওয়ের আলাদা ঘোষণা দেখে নিন।
২৪ ঘণ্টার ঘড়ি: অ্যাপ ও স্টেশনের তালিকায় অনেক সময় চব্বিশ ঘণ্টার হিসাবে সময় লেখা থাকে। যেমন রাত সাড়ে দশটা লেখা থাকতে পারে ২২:৩০ আকারে। ভুল বুঝে বারো ঘণ্টা আগে বা পরে স্টেশনে যাবেন না।
যাত্রার দিন শেষবার মিলিয়ে নিন
বিজ্ঞাপন
টিকিট কেটে ফেলার পরও যাত্রার দিন সকালে বা রওনা হওয়ার আগে একবার অ্যাপে বা কল সেন্টারে ট্রেনটির খবর নিন। শীতের কুয়াশার মৌসুমে রাতের ট্রেন কয়েক ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ার ঘটনা নতুন নয়, আর লাইন মেরামত বা দুর্ঘটনার কারণে মাঝে মাঝে ট্রেনের পথ বা সময় সাময়িকভাবে বদলায়।
স্টেশনে পৌঁছে প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা ও ডিসপ্লে বোর্ড খেয়াল করুন। বড় স্টেশনে একই সময়ে একাধিক ট্রেন ছাড়ে, শেষ মুহূর্তে প্ল্যাটফর্ম নম্বরও বদলাতে পারে।
মাঝপথের কোনো স্টেশন থেকে উঠলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। সময়সূচিতে লেখা থাকে ট্রেন সেখানে কটায় পৌঁছানোর কথা, কিন্তু আগের স্টেশনগুলোতে দেরি হলে সেই সময় বদলে যায়। আবার কখনো কখনো ট্রেন নির্ধারিত সময়ের আগেও পৌঁছে যায় এবং অল্প সময় থেমে ছেড়ে দেয়। তাই মাঝপথের স্টেশনে নির্ধারিত সময়ের অন্তত বিশ-পঁচিশ মিনিট আগে পৌঁছান।
পরিবারের বয়স্ক সদস্য কেউ একা ট্রেনে যাচ্ছেন? তাঁর মোবাইলে ট্রেনের নাম, নম্বর, কোচ ও আসন নম্বর লিখে দিন। তাঁকে নিতে যিনি স্টেশনে যাবেন, তিনিও যেন একই তথ্য দিয়ে ট্রেনের অবস্থা খোঁজ নিতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ট্রেনের সময়সূচি দেখার জন্য কোন অ্যাপ নির্ভরযোগ্য?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল রেল সেবা অ্যাপ। এতে আন্তনগর ট্রেনের সময় ও আসনের তথ্য পাওয়া যায় এবং টিকিটও কাটা যায়।
লোকাল ট্রেনের সময়সূচি কি অ্যাপে পাওয়া যায়?
বিজ্ঞাপন
সব লোকাল ট্রেনের তথ্য অ্যাপে না-ও পাওয়া যেতে পারে। স্টেশনের সময়সূচি বোর্ড, অনুসন্ধান কাউন্টার বা রেলওয়ের কল সেন্টার ১৩১ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
কোন ট্রেন কোন দিন বন্ধ, তা কীভাবে জানব?
অ্যাপে নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে খুঁজলে সেদিন যে ট্রেন চলে না, সেটি সাধারণত তালিকায় আসে না। পূর্ণ সময়সূচিতে প্রতিটি ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন লেখা থাকে।
ট্রেন দেরিতে চলছে কি না, আগে জানা যায়?
বিজ্ঞাপন
রওনা দেওয়ার আগে কল সেন্টারে বা স্টেশনে খোঁজ নিলে সাধারণত ট্রেনের অবস্থা জানা যায়। বড় স্টেশনের ডিজিটাল বোর্ডেও বিলম্বের তথ্য দেখানো হয়।