ফুলের ঘ্রাণে পথিক থমকে গেল, যদিও ফুলটি নজরকাড়া নয়
এক স্কুলশিক্ষিকা জানান, গাছের দুই পাশে দু’টি ছাতিম গাছের গন্ধে সন্ধ্যায় পথিক থমকে যায়
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি · মৌলভীবাজার
প্রকাশ:
গত বুধবার একটি স্কুলশিক্ষিকা জানান, মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের অন্তত দুটি জায়গায় তিনি ছাতিম (স্থানীয় নাম ‘ছাতনি’) গাছের তীব্র মিষ্টি ও ঝাঁজালো গন্ধ পেয়েছেন, যা সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে পথিকের নাকে থমকে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, হেমন্তের এই সময়ে ছাতিম গাছের সবুজাভ‑সাদা ফুলের প্রাচুর্য দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার সকালে একই সড়কের চাঁদনীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে পাশাপাশি দুটি ছাতিম গাছ রয়েছে; একটি গাছ তুলনামূলক কম বয়সী হলেও প্রচুর ফুল ফুটেছে, আর বৃষ্টিতে ভেজা ফুলগুলো স্নিগ্ধ দেখাচ্ছিল, অন্য গাছটি বেশ বয়স্ক এবং শাখা‑প্রশাখায় অসংখ্য ফুলের থরে থরে সাজানো। গাছের নিচে টিনের চালে জমে থাকা ঝরা ফুলও দেখা যায়।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে ধনঝরি পাহাড়ে হেমন্তের শুরুতে ছাতিম ফোটার সুবাসের বর্ণনা আছে, যেখানে তিনি লিখেছেন, “কিছুদূর উঠতেই কিসের মধুর সুবাসে মনপ্রাণ মাতিয়া উঠিল। গন্ধটা অত্যন্ত পরিচিত...চারিদিকে চাহিয়া দেখি ধনঝরি পাহাড়ে যে এত ছাতিম গাছ আছে তাহা পূর্বে লক্ষ্য করি নাই। এখন প্রথম হেমন্তে ছাতিম গাছে ফুল ধরিয়াছে, তাহারই সুবাস।”
নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা তাঁর ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইয়ে লিখেছেন, ছাতিমই একমাত্র বৃক্ষ যে হেমন্তের অঙ্গনে দাঁড়িয়ে প্রস্ফুটন ও সুগন্ধের প্লাবনে শীতকে অভ্যর্থনা জানায়। তিনি গাছের সংস্কৃত নাম ‘সপ্তপর্ণী’ উল্লেখ করে বলেন, গাছটি চিরহরিৎ, ছায়া প্রদানকারী, ডালপালা ছাতার মতো জোড়া‑দুটি, ফুল সবুজাভ‑সাদা এবং ফল সরু লম্বা, বীজ রোমশ।
পূর্বে ছাতিম গাছগুলো পথের ঘাটে ও বাড়ির আঙিনায় সাধারণত দেখা যেত, তবে এখন নানা কারণে গাছের সংখ্যা কমে গেছে; তবু বাতাসে ভেসে আসা বীজ থেকে নতুন গাছ বেড়ে উঠে, তাদের ফুলের সুগন্ধে অবস্থান জানায়।